সীমান্তে কর্তব্যরত বিএসএফ জওয়ানের উপরে হামলার ঘটনায় পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল। রবিবার বিকেলে ওই যুবককে গাইঘাটা সীমান্ত এলাকা থেকে ধরা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম কালী ঘোষ। বাড়ি ওই এলাকায়। অতীতে তার বিরুদ্ধে গরু পাচারের অভিযোগ ছিল। এই নিয়ে এই ঘটনায় তিনজন ধরা পড়ল।

শুক্রবার রাতে গাইঘাটা থানার পুলিশ তাপস ঘোষ ও সায়ন ঘোষ নামে দু’জনকে আংরাইল থেকে ধরে। তাদের বিরুদ্ধেও আগে গরু পাচারের অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি তারা ফের গরু পাচারের পরিকল্পনা করেছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে জওয়ানকে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি কালী এলাকায় ফিরেছিল। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, বছর তিরিশের কালী বাংলাদেশি পাচারকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। তাঁদের এ দেশে নিয়ে এসে গরু পাচারের কাজও করতে থাকে। ঘটনার দিন বাংলাদেশি গরু পাচারকারীদেরও সে এ দেশে নিয়ে এসেছিল বলে অভিযোগ।         

জওয়ানের উপরে হামলার প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে শনিবার বিকেলে বনগাঁয় একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে মিছিল করা হয়। 

বুধবার রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ আংরাইল সীমান্তে বাংলাদেশি গরু পাচারকারীদের ছোড়া বোমায় জখম হয়েছিলেন বিএসএফ জওয়ান আনিসুর রহমান। বিএসএফ জানিয়েছে, ওই জওয়ানের ডান হাতের তলার অংশ কব্জি থেকে উড়ে গিয়েছে। সারা শরীর বোমার স্‌প্লিন্টার লেগে ক্ষত-বিক্ষত। 

বিএসএফ সূত্রে জানা গিয়েছে,  ঘটনার সময়ে সীমান্তে পাহারা দেওয়ার কাজ করছিলেন আনিসুর। সে সময়ে বাংলাদেশ থেকে গোটা পঁচিশ জনের একটি গরু পাচারকারী দল এ দেশের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। বাংলাদেশি পাচারকারীরা এ দেশের পাচারকারীদের সহযোগিতায় ১০-১৫টি গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ। আনিসুর তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। পাচারকারীরা বোমা ছোড়ে। আত্মরক্ষার জন্য আনিসুর এক রাউন্ড গুলি চালান। 

পাচারকারীরা পাল্টা বোমা ছুড়তে থাকে। তাতেই জখম হন আনিসুর। অন্য জওয়ানেরা ছুটে আসেন। পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। আনিসুর আপাতত কলকাতার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

ওই  ঘটনার পরে গরু পাচার বন্ধ করতে বিএসএফ সীমান্তে কড়া পদক্ষেপ করেছে। টহলদারি বেড়েছে। 

সন্দেহজনক কাউকে দেখতে পেলে তল্লাশি করা হচ্ছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিএসএফের তরফে মাইকে প্রচার করে ঘোষণা করা হয়েছে, বর্ডার রোডে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। 

বহু দিন ধরেই আংরাইল সীমান্তে গরু পাচার হয় বলে অভিযোগ। কখনও পাচার কমে, কখনও বাড়ে। তবে বেশ কিছু ধরে এখানে গরু পাচার অনেকাংশে কমে গিয়েছিল বলেই জানাচ্ছেন স্থানীয় মানুষজন। তবে পাচারকারীরা জওয়ানের উপরে চড়াও হওয়ার পর থেকে আতঙ্কিত স্থানীয় মানুষজন।