সিনেমা দেখে সলতে পাকানো শুরু। তিন তরুণ ছক কষেছিল, ফোনে হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীদের থেকে টাকা আদায় করবে। আটঘাট বেঁধে নেমেছিল তারা। অনেক কাঠখড় পুড়িয়েও অবশ্য সেই পরিকল্পনা সফল হয়নি। লাগাতার তদন্ত চালিয়ে পুলিশ গ্রেফতার করেছে তিন তরুণকে। ধৃতদের নাম সাহেল গাইন, আজান আলি ও সানু আলি। প্রত্যেকেরই বয়স ১৯ থেকে ২২-এর মধ্যে। শুক্রবার ধৃতদের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে বারাসত আদালত। এই বয়সে অপরাধের ধরন দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে পুলিশেরই।

স্থানীয় সূত্রের খবর, কিছু দিন ধরেই বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে টাকা চেয়ে হুমকি-ফোন আসছিল। সম্প্রতি দেগঙ্গার এক ব্যবসায়ী পুলিশে অভিযোগ করেন, এক লক্ষ টাকা দাবি করে তাঁর মোবাইলে হুমকি-ফোন এসেছে। টাকা না দিলে তাঁর স্ত্রীকে যৌনপল্লিতে বিক্রি করে টাকা আদায় করা হবে বলেও ভয় দেখানো হয়েছে। এর পরেই আতঙ্কে তিনি থানার দ্বারস্থ হয়েছেন। এতেই শেষ নয়। ওই ব্যবসায়ীর আরও অভিযোগ, কেন তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছেন সেই প্রশ্ন তুলেও হুমকি দেওয়া হতে থাকে। অবস্থা এমন হয় যে, তিনি ভয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে পারছিলেন না।

তদন্তে নেমে এলাকায় দিন কয়েক নজরদারি চালিয়ে পুলিশ বুঝতে পারে, আশপাশ থেকেই আসছে ওই হুমকি-ফোন। ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গেই শুধু ফোনটি থেকে কথা বলা হচ্ছে এবং কথাবার্তার সময় ছাড়া বাকি সময় বন্ধ থাকছে মোবাইল। ওই নম্বরটি যাচাই করে জানা যায়, ব্যবহৃত সিম কার্ড এবং মোবাইল দু’টিই বেনামে নেওয়া। ফোনের কল লিস্ট ঘেঁটেও তেমন কোনও সূত্র পাননি তদন্তকারীরা। এর পরে তাঁরা ফোনের সময়ে টাকা দেওয়ার ফাঁদ পাতেন। আর সেই টাকা নিতে এসেই বৃহস্পতিবার পশ্চিম চ্যাংদানা থেকে ধরা পড়ে যায় সাহেল, আজান ও সানু। বাজেয়াপ্ত হয় মোবাইলটি।

পুলিশের দাবি, জেরায় ধৃতেরা জানিয়েছে, হিন্দি সিনেমা দেখে তারা ওই পরিকল্পনা করেছিল। দেগঙ্গা থানার আইসি পরেশ রায় বলেন, ‘‘এত কম বয়সে এ ভাবে পরিকল্পনা করে অপরাধ প্রবণতা উদ্বেগের। ওই তিন জনকে ঠিক পথে আনার জন্য পরিবারকে এগিয়ে আসতে বলা হয়েছে।’’