মসজিদ কমিটির জায়গা দখল করার অভিযোগ উঠল এলাকার কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভাঙড় ঘটকপুকুর রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান মসজিদ কমিটির লোকজন। পরে পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভাঙড় মহাবিদ্যালয়ের সামনে কলেজে রোডের ধারে গোবিন্দপুর মৌজায় ২৪৯ দাগে প্রায় ৮০ শতক একটি জমি রয়েছে। যার মধ্যে ১৫ শতকেরও বেশি জমি পূর্ত দফতরের। ওই জমির মধ্যে থেকে মাওলা বক্সের কাছ থেকে ৪ শতক জায়গা আব্দুল লতিফ মোল্লা তাঁর স্ত্রী মমতাজ বেগমের নামে কেনেন। অন্য দিকে মাওলার বোনের কাছ থেকে ৫ শতক জমি কেনেন ফুলবাড়ি গ্রামের আবদুর রহমান মোল্লা ও জুব্বার মোল্লারা। মমতাজ মারা যাওয়ার পরে ওই চার শতক জমি মসজিদ কমিটির নামে দান করেন আব্দুল। ওই জমির সামনে পূর্ত দফতরের বেশ কিছুটা জমি রয়েছে। মসজিদ কমিটির জমির সামনে পূর্ত দফতরের বেশ কিছুটা জায়গা রয়েছে। 

অভিযোগ, মসজিদ কমিটির জায়গার সামনে পূর্ত দফতরের জমি দখল করে দোকান ঘর তৈরি করতে যায় রহমান ও জুব্বাররা। এই নিয়ে মসজিদ কমিটির সঙ্গে তাঁদের বেশ কয়েকবার গন্ডগোলও হয়। 

অভিযোগ, বুধবার রাতে রহমান ও জুব্বার তাদের কেনা সম্পত্তির পাশাপাশি মসজিদ কমিটির সামনের পূর্ত দফতরের জায়গায় একটি ছাউনি তুলে দেয়। এই নিয়ে মসজিদ কমিটির লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এর প্রতিবাদে কমিটির লোকজন ভাঙড়-ঘটকপুকুর রাস্তা দীর্ঘক্ষণ অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনের কর্তারা গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয় মসজিদ কমিটির লোকজন অবরোধ তুলে নেয়।

আব্দুলের ছেলে মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘আমার বাবা মা মারা যাওয়ার আগে ওই জমি মসজিদ কমিটির নামে লিখে দিয়ে যায়। এখন সেই জমি জবরদখল করে দোকান ঘর তৈরি করতে চাইছে ওরা। এই নিয়ে আমাদের প্রতিবাদ।’’

আব্দুর ও জুব্বার বলেন, ‘‘মসজিদ কমিটির পাশে আমাদেরও কেনা সম্পত্তি রয়েছে। আমরা সেই জায়গায় আদালতের অনুমতি নিয়ে দোকান ঘর তৈরি করতে গেলে কমিটির লোকজন বাধা দেয়।’’

ভাঙড় ১ বিডিও সৌগত পাত্র বলেন, ‘‘ওই জমি নিয়ে একটা বিতর্ক রয়েছে। আমি একটা অভিযোগ পেয়েছি। সেই মতো বিএলআরওকে বলেছি জমিটি কাদের নামে রেকর্ড আছে, তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে। রিপোর্ট পেলে সেই মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’