• দিলীপ নস্কর
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

রাজনীতির শিকার আমরা, বলছেন মানুষ

দেওয়ালে ঝোলে  বাল্ব, ঘরে জ্বলে লম্ফ

Use of candle
গ্রামের বহু বাড়িতে এ ভাবেই চলে পড়াশোনা। নিজস্ব চিত্র
বিদ্যুৎ আছে। তবু সন্ধ্যা হলেই হ্যারিকেন, লম্ফ জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়। মাথার উপরে ঝোলে ফ্যান। কিন্তু তালপাতার পাখা দুলিয়ে ঘাম শুকোতে হয়। 
 
কারণটা লো ভোল্টেজ। তবে গ্রামের ভুক্তভোগীদের বক্তব্য, সমস্যাটা আরও গভীরে। যার গোড়ায় আসলে রয়েছে রাজনীতি।
 
উস্তির মগরাহাট ১ ব্লকের নৈনানপুর গ্রামের বহু মানুষ ভুগছেন এমন সমস্যায়। শুধু লো ভোল্টেজ নয়, রাস্তাঘাট, পানীয় জল— অনুন্নয়নের ছাপ এখানে গভীর।
 
প্রায় দশ বছর ধরে ওই এলাকায় পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির অনিমা মণ্ডল। অথচ, গ্রাম পঞ্চায়েতটি তৃণমূল পরিচালিত। গ্রামের মানুষের একাংশের অভিযোগ, গ্রাম্য রাজনীতির শিকার তাঁরা। জেলার বিজেপি সভাপতি দীপঙ্কর জানা বলেন, ‘‘আমাদের সদস্যকে কোনও কাজই করতে দিচ্ছে না। ফলে গ্রামের উন্নয়ন হয়নি। সম্পূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক শিকার হয়েছে গ্রামটি।’’ যদিও উস্তির পঞ্চায়েতের প্রধান ঝুমা সর্দার বিষয়টি এড়িয়ে যান।
 
গ্রামে জনসংখ্যা প্রায় তিন হাজার। বিদ্যুৎ এসেছে বহু বছর আগে। গ্রামের এক প্রান্তে ৬৪ কেভির ট্রান্সফর্মার থেকে গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়। কিন্ত দিন দিন জনসংখ্যা বাড়লেও ট্রান্সফর্মার বদল হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ট্রান্সফর্মারের কাছাকাছি যাঁদের বাড়ি, তাঁরাই শুধু স্বাভাবিক বিদ্যুৎ পরিষেবা পান। বাকি পরিবারগুলি দিন-রাত লো ভোল্টেজের সমস্যায় ভুগছে। না চলছে টিভি, না ঘুরছে পাখা। বাধ্য হয়ে সন্ধ্যা হলেই কেরোসিনের ল্যাম্প, হ্যারিকেনের আলো জ্বালিয়ে বাড়ির কাজকর্ম করতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্যও ভরসা ওই আলোই। 
 
গ্রাম থেকে কিছুটা দূরেই এলাকার বিধায়ক তথা মন্ত্রী গিয়াসউদ্দিন মোল্লার বাড়ি। এলাকার মানুষের সমস্যার কথা তিনি জানেন না বলেই দাবি করলেন। মন্ত্রীর কথায়, ‘‘ওই এলাকায় দলের কর্মীদের পাঠিয়ে সমস্ত সমস্যা জেনে ভোটের আগে সমাধান করে দেব।’’
 
নিজের বাড়ি থেকে কয়েকশো মিটার দূরত্বের ঘটনা মন্ত্রী জানেন না শুনে বিস্মিত গ্রামের অনেকে। 
 

নৈনানপুর গ্রামের বাসিন্দা সমীর মণ্ডল, লক্ষ্মণ মণ্ডলদের কথায়, ‘‘মন্ত্রী উস্তি পঞ্চায়েতে ৬ জনের একটি কমিটি গড়ে দিয়েছেন। ওই কমিটির সদস্যেরা এলাকার উন্নয়ন দেখেন। কিন্ত পঞ্চায়েত সদস্য বিজেপির হওয়ায় কোনও উন্নয়ন হচ্ছে না। গত দশ বছরে আমাদের গ্রামের প্রাপ্তি বলতে একটা নলকূপ ও ৭০০ ফুট ঢালাই রাস্তা। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, ইন্দিরা আবাস যোজনা, একশো দিনের কাজ, আমার বাংলা প্রকল্পের মতো সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও হাতে গোনা কয়েকজন পেয়েছেন। আমপানে ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন মেরে কেটে ৮-১০ জন। অথচ অনেকের ঘরবাড়ি ক্ষতি হয়েছিল।’’ মগরাহাট ১ বিডিও বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘‘জায়গা না পাওয়ায় নতুন ট্রান্সফর্মার বসানো যাচ্ছে না। বাকি সমস্যাগুলি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।’’ 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন