কুলতলি ও ডায়মন্ডহারবার বাবা ছেলে দুজন মিলে শুরু করেছিল বেআইনি অস্ত্রের ব্যবসা। বাড়ির মধ্যেই গড়ে তুলেছিল অস্ত্র তৈরির কারখানা। কুলতলির নাপিতখালির টেংরাবিচি এলাকায় প্রায় বছর দুয়েক ধরে চলছিল এই কারবার। গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোর রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে এই অস্ত্র কারখানার হদিশ পায় কুলতলি থানার পুলিশ ও বারুইপুর পুলিশ জেলার স্পেশাল অপারেশান গ্রুপ। বাড়ির মালিক আব্দুল কাহার লস্কর ও তার ছেলে আব্দুল রউফ লস্করকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্র। তিনটি সিঙ্গেল ব্যারেল লম্বা পাইপগান, তিনটি ওয়ান শাটার, ১৪৬ রাউন্ড কার্তুজ, ৫৫ রাউন্ড কার্তুজের খোল উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়াও বেশ কয়েকটি নির্মীয়মান অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির নানা সরঞ্জামও পাওয়া গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রত্যন্ত এলাকার সুযোগ নিয়ে বাবা ছেলে এই কারখানা গড়ে তুলেছিল। এখানে তৈরি অস্ত্র কোথায় সরবরাহ করা হতো তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। পাশাপাশি কোথা থেকে অস্ত্র তৈরির কাঁচামাল আসতো তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে সোমবার রাতে ডায়মন্ডহারবারের ন্যাতরা নতুন পাড়া থেকেও বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র সহ দুই দুষ্কৃতীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের নাম আব্বাস উদ্দিন সাঁপুই ও মহম্মদ জাফর আলি। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭টি ম্যাগজিন, ৪০ রাউন্ড এইট এম এম কার্তুজ। পুলিশ জানিয়েছে,  গোপন সূত্রে খবর পেয়ে এদিন রাতে আব্বাস উদ্দিনের বাড়িতে তল্লাশি চালায় তারা। তার বাড়ি থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই খোঁজ মেলে বিহারের বাসিন্দা জাফরের। ওই বাড়ি সংলগ্ন অন্য একটি ঘর থেকে ধরা হয় জাফরকে। হদিশ পাওয়া যায় ওই অস্ত্র ভান্ডারেরও। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অনুমান বিহার থেকে অস্ত্র এনে বিভিন্ন এলাকায় পাচার হত। ধৃতদের আজ মঙ্গলবার ডায়মন্ডহারবার আদালতে তোলা হলে বিচারক ৭ দিনের পুলিশি হেফাজতের 

নির্দেশ দেন।