জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বাপেরবাড়িতে এসেছিলেন চিকিৎসা করাতে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। মৃত্যু হল বধূর। দেগঙ্গার ঘটনা। বারাসত জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও শনিবার রাতে শিবানী দে (৩৪) নামে ওই মহিলা মারা যান। শিবানীর পরিবারের দাবি, তাঁর ডেঙ্গি হয়েছিল। তবে হাসপাতালের দাবি শিবানী সেপ্টিসেমিয়ায় মারা গেছেন।

শিবানীর পরিবার সূত্রে খবর, তাঁর স্বামী বাবলু দে নিজেও জ্বরে আক্রান্ত। শিবানীর বাবা-মায়ের বাড়ি দেগঙ্গার চ্যাংদানায়। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে রবিবার শিবানীর মা শান্তিরানি দাস জানান, তাঁর মেয়ের শ্বশুরবাড়ির আশপাশে ডেঙ্গি ছড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘জ্বর গায়ে আমার বাড়ি এলো মেয়েটা। ওকে সুস্থ করতে পারলাম না। ডেঙ্গিতে মেয়েটা মারা গেল।’’

হাবড়ার সংলগ্ন দেগঙ্গার আমুলিয়া পঞ্চায়েতের চারটি এলাকায় গত কয়েক দিন ধরে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। গত শুক্রবার ঝিকুরিয়া দাসপাড়ার মিঠুন দাস নামে এক জন মারা যান। তার পরে শনিবার রাতে চক কলাপোলের বাসিন্দা শিবানীর মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবার ডেঙ্গি দাবি করলেও হাসপাতালের তরফে মৃত্যুর কারণ লেখা হয়েছে সেপ্টিসেমিয়া। ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

শিবানীর বাবা নারায়ণবাবু জানান,গত বুধবার জ্বর নিয়ে তাঁর মেয়ে তাঁদের বাড়িতে আসেন। শুক্রবার রাতে শিবানীর অবস্থার অবনতি হয়। তাঁকে স্থানীয় বিশ্বনাথপুর ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বারাসত জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। নারায়ণবাবুর কথায়, ‘‘মেয়ের প্লেটলেট প্রচণ্ড কমে যাওয়ায় চিকিৎসক রক্ত আনতে বলেন। আমরা রক্ত নিয়ে এলেও মেয়ে নিতে পারেনি।’’ শিবানীর স্বামী বাবলু দে বলেন, ‘‘আমাদের হাবড়া লাগোয়া এলাকাগুলিতে জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে। ওর রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গি ধরা পড়েছিল। আমি নিজেও ক’দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত।’’