একাধিকবার কুপ্রস্তাব আসছিল এক যুবকের কাছ থেকে। কিন্তু তাতে রাজি হননি। প্রত্যাখ্যাত হয়ে ওই যুবতী এবং তাঁর স্বামীর অন্তরঙ্গ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় ওই যুবক। সম্প্রতি বছর চব্বিশের ওই যুবতীর ছবি দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যাকাউন্ট খুলে আপত্তিকর বিষয় ‘পোস্ট’ করছিল সে। যুবতীর পরিবারের অভিযোগ তেমনই। তাতে যুবতীটির পরিবারে অশান্তি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত সোমবার বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন ওই যুবতী।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আপাতত বসিরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই যুবতী। তাঁর স্বামী ওই যুবকের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ করেছেন। মঙ্গলবার ভোর বেলা পুলিশ বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে অভিযুক্ত রাহুল সর্দারকে গ্রেফতার করে। সে বাংলাদেশ পালানোর চেষ্টা করছিল বলে জানিয়েছে হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হিঙ্গলগঞ্জের একটি গ্রামে বাড়ি ওই মহিলার। তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে মুম্বইতে থাকেন। সেখানে তাঁর সাথে পরিচয় হয় হাসনাবাদের বরুণহাট গ্রামের রাহুল সর্দারের। কয়েক মাস আগে রাহুল বাড়ি ফিরছে খবর পেয়ে ওই যুবতীর স্বামী একটি অকেজো মোবাইল ফোন তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য রাহুলকে দেন। 

অভিযোগ, রাহুল মোবাইলটি মেরামত করার পর তা আর যুবতীর বাড়িতে পৌঁছে দেননি। মোবাইলে যুবতী এবং তাঁর স্বামীর বেশ কিছু ব্যক্তিগত ছবি এবং ভিডিয়ো ছিল। রাহুল সেই সব ছবি দেখিয়ে বন্ধুর স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়। মহিলা তাতে রাজি না হওয়ায় ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। যুবতী তাতেও রাজি না হওয়ায় ছবিগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় সে। 
পুলিশ জানায়, তাতেও ওই যুবতী রাহুলের প্রস্তাবে রাজি হননি। শেষে ওই মহিলার ছবি দিয়ে ‘ফেসবুকে’ একটি ভুয়ো অ্যাকাউন্ট খুলে তাতে ছবি আপত্তিকর ছবি পোস্ট করতে শুরু করে। তাতে পরিচিতদের মধ্যে যথেষ্ট অস্বস্তির মধ্যে পড়েন যুবতী। ঘটনার কথা জানাজানি হতে গ্রামে নানা কথা শুরু হয়। পুলিশ মনে করছে এ সব সহ্য করতে না পেরেই যুবতী সোমবার সকালে জমিতে দেওয়া কীটনাশক খান।