ভোর রাতে পাড়ার খালি বাড়িটিতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখে বেরিয়ে এসেছিলেন এক প্রতিবেশী। তাঁর চিৎকারে আরও কয়েকজন। দমকলে খবর দেওয়ার ফাঁকে আগুন নেভানোর চেষ্টা শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা।

এই সময়ে ওই বাড়ি লাগোয়া একটি আমগাছ বেয়ে নেমে ছুটে পালানোর চেষ্টা করে এক যুবক। পাড়ার লোকেরা তাকে ধরে ফেলেন। তাকে দেখেই চমকে যান পাড়ার বাসিন্দারা। এ যে ওই বাড়িরই ছোট ছেলে! তার হাতে ছিল একটি পেট্রোলের জেরিক্যান। তাকে আটকে খবর দেওয়া হয় পুলিশে। রবিবার ভোরে সুরজিৎ পাল নামে ওই যুবককে টিটাগড় থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ব্যারাকপুরের পালপাড়ার এই ঘটনায় তাজ্জব এলাকার বাসিন্দারা।

জেরায় সুরজিৎ নিজের বাড়িতে আগুন লাগানোর কথা স্বীকারও করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ির লোকেরা অসমে গিয়েছেন। সেই সুযোগে সে বাড়িতে আগুন লাগায়। সম্পত্তির ভাগ দেওয়া নিয়ে বাবা নরেশ পালের সঙ্গে ঝামেলার জেরে সুরজিতকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নরেশবাবু পেশায় মৃৎশিল্পী। তাঁর প্রথম পক্ষের ছোট ছেলে সুরজিৎ। দ্বিতীয় পক্ষের দুই মেয়ে। সুরজিৎও বাবার সঙ্গে মাটির প্রতিমা তৈরি করত। পরে সে মাটির কাজ ছেড়ে সোনার গয়নার দোকানে কাজ নেয়। বছর কয়েক আগে বিয়ে হয় সুরজিতের। স্ত্রীর সঙ্গেও তার প্রায় ঝামেলা হত। বছর দুয়েক আগে স্ত্রী তাকে ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে যান। পরে তাঁদের ছাড়াছাড়ি হয়।

তার পর থেকেই সুরজিৎ নরেশবাবুকে চাপ দিতে থাকে বাড়ির অর্ধেক তাকে লিখে দিতে হবে। পুলিশ জানিয়েছে, তাতে রাজি হননি নরেশবাবু। তিনি ছেলেকে বোঝানোর চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু সুরজিৎ মাঝে মধ্যেই বাড়িতে ভাঙচুর চালাতো। তাই নিয়ে অশান্তি চরমে ওঠায় সুরজিৎকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। তার পর থেকে সুরজিৎতকে ওই এলাকায় বিশেষ দেখা যেত না।

নরেশবাবুর বাড়িটি দোতলা। উপরের তলার একটি বড় ঘরের দেওয়াল বেড়ার তৈরি। নিচের একটি ঘরে প্রতিমা তৈরি করে রাখা ছিল। একটি বিয়ের অনুষ্ঠান যোগ দিতে শুক্রবার নরেশবাবুরা সকলেই অসমে যান।

পুলিশকে সুরজিৎ জানিয়েছে, এ দিন ভোর চারটে নাগাদ ব্যারাকপুর রেলস্টেশন থেকে একটি রিকশাতে করে পালপাড়ায় তার বাড়িতে যায়। ঘর তালাবন্ধ ছিল। পাশের একটি আমগাছ বেয়ে সে উপরে ওঠে। সেখান থেকে ছাদে নেমে দোতলার বেড়ার ঘরটিতে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয় সে।

পুলিশ জানিয়েছে পাড়ার একজন আগুন দেখে চিৎকার জুড়তেই অনেক লোক জড় হয়ে যায়। তার ফলেই পালাতে গিয়ে ধরা পড়ে যায় সুরজিৎ। দমকল আসার আগেই প্রায় পুরো বাড়িটি পুড়ে যায়। পুড়ে যায় বেশ কয়েকটি প্রতিমাও। নরেশবাবুদের পুরো ঘটনা জানানো হয়েছে। তাঁরা অসম থেকে ফিরছেন।