মোবাইল ওয়ালেট থেকে টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে পাঠাতে না পেরে সাহায্য চেয়ে ওই ওয়ালেট সংস্থাকে টুইট করেছিলেন অমিত দাস। আর সেটাই কাল হল তাঁর। অভিযোগ, ওই মোবাইল ওয়ালেট সংস্থার নাম করে পাল্টা টুইট করে অমিতের মোবাইল ওয়ালেট ও ক্রেডিট কার্ড থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার টাকা! 

সম্প্রতি ব্যারাকপুর সাইবার ক্রাইম থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন কলকাতার এক তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার কর্মী অমিত। ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (জোন ১) কে কান্নন জানিয়েছেন, বিষয়টি দেখছে গোয়েন্দা বিভাগ। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, অসমের এক যুবতী এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত।

কী ভাবে প্রতারিত হলেন নৈহাটির এই বাসিন্দা? অমিত জানাচ্ছেন, জিনিসপত্রের কেনাকাটার জন্য মোবাইল ওয়ালেটের উপরেই ভরসা করেন তিনি। তাঁর ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডও ওই ওয়ালেট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত। গত ১৩ অগস্ট মোবাইল ওয়ালেটে ৮ হাজার টাকা পাঠানোর পরে তা আর একটি অ্যাকাউন্টে পাঠাতে পারছিলেন না তিনি। তাই ওয়ালেট সংস্থার কাস্টমার হেল্পলাইনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন অমিত। যোগাযোগ করতে না পেরে অবশেষে ওই সংস্থাকে টুইট করেন। 

একটি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে অমিতের কাছে। এক মহিলা নিজেকে ওই ওয়ালেট সংস্থার কাস্টমার কেয়ার এগজিকিউটিভ বলে পরিচয় দিয়ে সমস্যার সমাধানের জন্য ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত তথ্য এবং ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) জানতে চান। অমিত তা দিতে রাজি না হলে তাঁর আস্থা অর্জনের জন্য ওই মহিলা বলেন, ‘ওয়ালেট সংস্থার টুইটার হ্যান্ডেল থেকে আপনাকে টুইট করছি’। পরমুহূর্তে ওই সংস্থার লোগো দেওয়া টুইটার হ্যান্ডেল থেকে অমিতকে সত্যি সত্যিই পাল্টা টুইট করা হয়। এ বারে আর অবিশ্বাস করার কারণ দেখেননি তিনি। ওটিপি এবং ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ওই মহিলাকে দেওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যেই অমিত জানতে পারেন, তাঁর ক্রেডিট কার্ড থেকে ১০ হাজার টাকা এবং মোবাইল ওয়ালেট থেকে ৭৩০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে! পরে ওই মোবাইল সংস্থার সঙ্গে ই-মেলে যোগাযোগ করে অমিত জানতে পারেন যে, অসমের এক মহিলার অ্যাকাউন্টে ওই টাকা ঢুকেছে। এর পরেই পুলিশের দ্বারস্থ হন তিনি।