বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ছাত্র সংসদের মনোনয়ন তোলাকে কেন্দ্র করে টিএমসিপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধল গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে। ফলে মঙ্গলবার সাড়ে ১১টা নাগাদ মনোনয়ন তোলার সময় থাকলেও তা শুরু হয় প্রায় দু’ঘণ্টা পরে। ১৯টি আসনের মধ্যে দুটিতে মনোনয়ন তুলতে পারেনি কোনও পক্ষই। বাকি ১৭টি আসনে ২৮টি মনোনয়ন তোলা হয়েছে।

প্রায় আড়াই বছর পরে আইন বিভাগের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষিত হয়েছিল এ বছর। মঙ্গলবার ছিল মনোনয়ন তোলার দিন। সংঘর্ষ এড়াতে সকাল থেকেই গোলাপবাগ কলাভবনে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টিএমসিপি-র দুটি গোষ্ঠীই মনোনয়ন তোলার জন্য হাজির হয় সাড়ে দশটা নাগাদ। তবে কারা মনোনয়ন তুলবে তা নিয়ে কয়েক দফায় আলোচনার পরেও ঐক্যমত হয়নি। এরপরেই বচসা শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে। সংঘর্ষও বাধে। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রজত ভট্টাচার্য গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে আসেন। তবে এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তবে ওই নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক কল্যাণ মুখোপাধ্যায় ও পরেশ আচার্য জানিয়েছেন, এলএলবি প্রথম বর্ষে পাঁচটি আসনের মধ্যে আটটি, তৃতীয় বর্ষে পাঁচটির মধ্যে সাতটি, পঞ্চম বর্ষে পাঁচটি আসনের মধ্যে ১০টি মনোয়নন তোলা হয়েছে। এলএলএমের দ্বিতীয় বর্ষের দুটি আসনের মধ্যে তিনটি মনোনয়ন পত্র তোলা হয়েছে। তবে চতুর্থ বর্ষে কোনও গোষ্ঠীই মনোয়নন পত্র তোলেনি।

তবে ওই বিভাগের টিএমসিপি ইউনিটের সভাপতি দীপায়ন দাসের দাবি, “সংগঠনের রাজ্য সভাপতির অনুমোদন দেওয়া নাম অনুসারে আমরা মনোনয়ন তুলেছি। কিন্তু বাকি ১১টি মনোয়ন কারা তুলেছে তা জানি না। যাঁরা ওই মনোনয়ন তুলেছেন তাঁরা টিএমসিপি-র কেউ নন।”

এ দিকে ১১টি  মনোনয়ন পত্র যারা তুলেছে সেই গোষ্ঠীর নেতা কৃষ্ণেন্দু রায় ও কৃশানু রায়ের দাবি, “আমরা ২০০৮ সাল থেকে টিএমসিপি করছি। আমাদের বাদ দিয়ে ইউনিট যাঁদের নির্বাচনে দাঁড় করাতে চাইছে তাঁদের পাশে কোনও ছাত্রছাত্রীই থাকবেন না। যে যাই বলুক, আমরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করব না। ১১টি আসনে জিতে আমরাই সংসদ গঠন করব। জেলা ও রাজ্য টিএমসিপি সভাপতি আমাদের পাশেই আছেন।” ওই ১১জনের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছাত্র সংসদের সহ-সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন ও সদ্য বিদায়ী সাধারণ সম্পাদক দীপক পাত্র। তাঁরা বলেন, “টিএসসিপি-র শহর সভাপতি রাসবিহারী হালদার তাঁর দলবল নিয়ে সকাল থেকে গোলাপবাগের গেটে দাঁড়িয়ে ছিলেন। যাঁরা ইউনিটের বাইরে মনোনয়ন জমা দিতে চাইছে তাঁদের বাধা দিয়েছেন তাঁরা। ফলে ঘুরপথে এসে মনোনয়ন জমা দিতে হয়েছে তাঁদের।” তাঁদের অভিযোগ, “এ ধরনের সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা আমরা বরদাস্ত করব না। মনোনয়নপত্র তোলার অধিকার সকলেরই রয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলামের গোলাপবাগে উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষুব্ধরা। আমিরুল অবশ্য বলেন, “আমি গোলাপবাগে কোনও পক্ষের হয়ে আসিনি। শৃঙ্খলা যাতে নষ্ট না হয় তা দেখা ছিল আমার লক্ষ্য।” আর রাসবিহারীর দাবি, “সাদ্দামদের অভিযোগ মিথ্যে। আমি ইউআইটির ছাত্র। সেখানে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলাম। আমি কাউকে গোলাপবাগে ঢুকতে বাধা দিই নি।”

টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি অশোক রুদ্র বলেন, “ইউনিট সভাপতি দীপায়ন একটি প্যানেল নিয়ে এসেছিলেন। আমি বলেছি, ওই প্যানেলে যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে যেন মনোয়ন তোলা হয়। তবে নির্বাচনের আগে সমস্ত গোলমাল মিটে যাবে। বিক্ষুব্ধেরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন বলেই আমার বিশ্বাস।”