সেনাবাহিনীতে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগে পানাগড় থেকে গ্রেফতার করা হল তিন যুবককে। পুলিশ জানায়, যে গাড়িতে করে ধৃতেরা পানাগড়ে এসেছিল, সেটিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে সেনাবাহিনীর প্রচুর জাল কাগজপত্র। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন কয়েক আগে রাঁচির তিন যুবককে সেনাবাহিনীর মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস দফতরে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেয় ধানবাদের বাসিন্দা প্রদীপ কুমার। মঙ্গলবার পানাগড়ে এসে তাঁদের দেখা করতে বলে প্রদীপ। সে জন্য তিন যুবক পানাগড়ের একটি লজে এসে ওঠেন। বিকেল ৩টে নাগাদ তাঁদের একটি ধাবার সামনে যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে প্রদীপ তাঁদের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার পরে, ভিতরে গৌতম মাহাতো ও প্রকাশ পণ্ডিত নামে আরও দু’জনের সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে যায়। সেই সময়ে কাঁকসা থানার পুলিশ সেনাবাহিনীর একটি দলকে নিয়ে সেখানে হাজির হয়। ছ’জনকেই ধরে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এর পরে রাঁচির তিন যুবককে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেয় পুলিশ। অভিযোগ পেয়েই গ্রেফতার করা হয় প্রতারণায় অভিযুক্ত                                                                       তিন জনকে।

পুলিশ জানায়, ধৃতদের জেরা করে দলে আর কে বা কারা আছে, তা জানার চেষ্টা চলছে। ধৃতেরা ধানবাদের বাসিন্দা বলে জানিয়েছে। তাদের ঠিকানা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রাঁচির এক যুবক বলেন, ‘‘প্রদীপ নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মী বলে পরিচয় দিয়েছিল। আমাদের বলা হয়েছিল, চাকরির জন্য চার লক্ষ টাকা করে দিতে হবে। কথাবার্তার সময়ে আচমকা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর দল এসে ঘিরে ফেলে।’’

পুলিশের একটি সূত্রে অবশ্য জানা গিয়েছে, রাঁচির ওই যুবকদের কাছে আগেই খবর পেয়েছিল পুলিশ। এর পরেই যোগাযোগ করা হয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে। পরিকল্পনা করেই রাঁচির যুবকদের দিয়ে ফাঁদ পাতা হয়। ধাবার সামনে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে নজর রাখছিল পুলিশ। রাঁচির যুবকদের নিয়ে প্রদীপ ভিতরে যেতেই পুলিশ ও সেনাকর্মীরা সেখানে ঢুকে পড়ে ধরে ফেলেন ছ’জনকে। পুলিশ জানায়, আরও একটি গাড়ি ছিল। সেটিতে ‘প্রেস’ স্টিকার সাঁটা ছিল। সেটি ওই সময়ে পালিয়ে যায়। গাড়িতে করে কত জন পালিয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ। বুধবার ধৃত তিন জনকে দুর্গাপুর আদালতে তোলা হলে ১০ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।