দোতলার ঘুরে ঘুমোচ্ছিলেন মা-ছেলে। মাঝরাতে ওই যুবতীকে লক্ষ্য করে অ্যাসিড ছোড়ার অভিযোগ উঠল কেতুগ্রামের কান্দরায়। মঙ্গলবার রাতের ঘটনা। তাঁর পেট ও পায়ের কিছু অংশ পুড়ে গিয়েছে। অল্প জখম হয়েছে বছর দশেকের কিশোরও। পরে ওই বধূর অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রামেরই দু’জনকে গ্রেফতার করেছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামে বাউল গানের অনুষ্ঠান দেখে ফিরে শ্বশুরবাড়িতে নিজের ঘরে ছেলেকে নিয়ে শুয়েছিলেন বছর তিরিশের ওই বধূ। তাঁর অভিযোগ, রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ দোতলার ঘরের জানলা দিয়ে অ্যাসিড ছোড়ে দুষ্কৃতীরা। তবে অ্যাসিডের বেশির ভাগটা বিছানায় পড়ে। পুড়ে যায় ওই বধূর পেট, পা ও হাঁটুর কিছু অংশ। মা, ছেলে দু’জনকেই রাতে কেতুগ্রাম ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। পরে গ্রামের তিন জনের নামে থানায় অভিযোগ করেন তিনি।

ওই মহিলার বাপেরবাড়ির দাবি, বছর পনেরো আগে কান্দরা মোল্লাপাড়ার এক ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁদের মেয়ের। দুই ছেলেও রয়েছে ওই দম্পতির। মাস আটেক আগে জামাই ওই গ্রামেই দ্বিতীয় বিয়ে করেন বলে তাঁদের দাবি। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাপের বাড়িতেই থাকতেন তিনি। অ্যাসিড আক্রান্তের অভিযোগ, ‘‘স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের লোকজনই রাগের বশে এই কাজ করেছে।’’ এর পরেই তাঁর স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা নূরশেদ শেখ ও আর এক আত্মীয় চয়ন শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বুধবার ধৃতদের কাটোয়া আদালতে তোলা হলে তিন দিন পুলিশ হেফাজত দেন বিচারক। পুলিশের দাবি, হামলায় ব্যবহৃত অ্যাসিড অভিযুক্তরা কোথা থেকে কিনেছিল, কী ভাবে দোতলার ঘরের সমান উচ্চতায় উঠে জানলা দিয়ে ওই অ্যাসিড ফেলা সম্ভব হল, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। যদিও অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবী মহসিন খানের দাবি, ‘‘ব্যক্তিগত স্বার্থে উনি এই অভিযোগ তুলেছেন।’’