কন্যা সন্তানদের মুখ চেয়ে মাস খানেক আগে প্রশাসনের কর্তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে কয়েকটি গাছ লাগিয়ে এসেছিলেন। সেই গাছগুলিকে উপযুক্ত পরিচর্যা করার জন্য শনিবার একশো জন কন্যার মা’কে সংবর্ধনা জানাল পূর্বস্থলী ১ ব্লক প্রশাসন।

প্রশাসনের সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস সাতেক আগে কন্যা সন্তান হয়েছে, এমন বাড়িতে পৌঁছে যায় প্রশাসনের দল। সংশ্লিষ্ট পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় ১১টি করে চারাগাছ। বাড়ির উঠোন বা লাগোয়া এলাকায় যত্ন করে রোপণ করা হয় সেই চারাগুলিকে। পরিবারের সদস্যদের কাছে আবেদন করা হয়, ‘সন্তানের মতো করেই পরিচর্যা করুন গাছগুলির। মেয়েরা বড় হলে তা থেকেই পড়াশোনার খরচ আসবে।’

ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৭০টি পরিবারকে বেছে নিয়ে চারা-বিলি করা হয়। সেই সব পরিবারগুলির মধ্যে থেকেই একশো জন কন্যা সন্তানের মা’কে বেছে নেওয়া হয়। এই মায়েরা যত্ন করে পরিচর্যা করছেন গাছগুলির। এ দিনের সংবর্ধনায় দেওয়া উপহারের তালিকাও ছিল বেশ অভিনব। মায়েদের চারা গাছ, শিশু কন্যার জন্য জামা, হাস-মুরগির বাচ্চা ও মিষ্টির হাঁড়ি তুলে দেওয়া হয়।

সঙ্গে দেওয়া হয় মা ও মেয়ের ছবি সম্বলিত একটি কার্ড। এ ছাড়া সময়মতো কখন কী টিকা দিতে হবে, বাল্য বিবাহের কুফল কী কী, বাড়িতে শৌচাগার কেন দরকার, এ সব বিষয়েও প্রচার চালানো হয়। মা ও শিশুর পুষ্টিতে যাতে খামতি না থাকে, সে জন্য দেওয়া হয়েছে হাঁস, মুরগির বাচ্চা।

বিডিও পুষ্পেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘এই উদ্যোগের প্রথমে নাম ছিল ‘পুষ্পিতা’। বর্তমানে তা পাল্টে করা হয়েছে ‘সবুজশ্রী প্লাস’। এখনও পর্যন্ত প্রত্যন্ত গ্রামেও দারুণ সাড়া মিলেছে। মায়েদের আরও উৎসাহিত করতেই এমন উদ্যোগ।’’ অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি দিলীপ মল্লিক।

প্রশাসনের এমন উদ্যোগে খুশি মায়েরাও। তাঁদেরই কয়েক জন বলেন, ‘‘এই উদ্যোগের ফলে ফের প্রমাণিত হল, মেয়েরা ব্রাত্য নন। সেই সচেতনতা তৈরি হবে এ বার বাড়ি থেকেই।’’