• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নালিশ দুর্ব্যবহারের

ফল নিয়ে ফের বিক্ষোভ বিশ্ববিদ্যালয়ে

ফল বিভ্রাটের প্রতিবাদে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ চলছেই।

বুধবার বর্ধমান উইমেনস্ কলেজ ও রাজ কলেজের শ’খানেক পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক দফতরে বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, প্রায় ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পরেও এ দিন পরীক্ষা নিয়ামকের দেখা পাননি তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজবাটী ক্যাম্পাসে অভিযোগ জানানোর যে সেল খোলা হয়েছে সেখানে গেলে তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলেও নালিশ করেছেন পড়ুয়ারা। যদিও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ মানেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্ট-২ পরীক্ষায় ফল প্রকাশের পর থেকেই দেরিতে ফলপ্রকাশ, মার্কশিটে অজস্র ভুল-সহ একাধিক অভিযোগে মিছিল, বিক্ষোভ, অবরোধ করছিলেন পড়ুয়ারা। তাতে ভিন জেলার তো বটেই কলকাতা, প্রেসিডেন্সি ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু পড়ুয়াও যোগ দেন। তৈরি হয় ‘হোক প্রতিবাদ’ নামে একটি মঞ্চ। সেই মঞ্চের ব্যানারে ইতিমধ্যেই বর্ধমান শহরে প্রতিবাদ সভা ও পথ অবরোধ হয়েছে। লিফলেট বিলি করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিশৃঙ্খলা তৈরির অভিযোগে ৬ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে অবশ্য তাদের ব্যক্তিগত জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, গত শিক্ষাবর্ষে পার্ট-৩ পরীক্ষায় ফল অসম্পূর্ণ থাকা পরীক্ষার্থীদের অনেকেই পরিবর্তিত মার্কশিট হাতে পাননি। ফলে তাঁরা স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তির ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়ছেন। এছাড়াও চলতি বছরের পার্ট ১ পরীক্ষার রিভিউয়ের ফল প্রকাশ এখনও হয়নি। বর্ধমান উইমেনস্ কলেজের ছাত্রী বৈশাখী দে, সুজাতা চক্রবর্তী, নন্দিতা সেনগুপ্তের ক্ষোভ, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ফল দেখতে গেলে ‘নট ফাউন্ড’ বলছে। আমরা কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি। এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক দফতরে অভিযোগ জানাতে এসেছিলাম। কিন্তু পরীক্ষা নিয়ামকের দেখাই পেলাম না।” উওম্যানস্ কলেজেরই ছাত্রী দীপিকা দেব বলেন, “আমার পার্ট-১ ও ২ পরীক্ষার অ্যাডমিট কার্ডে পদবি ভুল রয়েছে। বারবার অভিযোগ করেও সংশোধন করাতে পারিনি।”

গতকালই কাটোয়ায় মিছিল করে পড়ুয়ারা অভিযোগ করেছিলেন, যার যেমন লটারি লেগেছে, সে তেমন নম্বর পেয়েছে। কেউ কেউ তো ২০০ নম্বরের মধ্যে ২০২ পেয়েছে। অসমাপ্ত ফলের সংখ্যা অগুনতি। এ দিনও উঠে এসেছে সেই অভিযোগ। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের অন্যতম ইপ্সিতা গুপ্ত, রমা বন্দ্যোপাধ্যায়, সাইদুল আলমদের দাবি, পাশ কোর্সের সংস্কৃত, ইতিহাস, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে গড় নম্বর বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই ভাল পরীক্ষা  দিয়েও খুব কম নম্বর পেয়েছেন। পার্ট-১ পরীক্ষার সঙ্গে পার্ট-২ পরীক্ষার নম্বরের ব্যবধান অনেক। তাঁদের ক্ষোভ, ‘পরীক্ষার খাতা আদৌও দেখা হয়েছে কি না সেটা নিয়েই আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’’

গত কাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য স্মৃতিকুমার সরকার ফলাফলে ক্রটির কথা স্বীকার করে জানিয়েছিলেন  ফল প্রকাশে সমস্যার কারণ জানতে একটি কমিটি তৈরি হয়েছে। ওই কমিটি ৩০ এপ্রিলের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, পরীক্ষা নিয়ামক দীপককুমার সোম এ দিন দিনভর বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন। তাই তিনি পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারি পরীক্ষা নিয়ামক কৃষ্ণেন্দু মজুমদার বলেন, “আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিযোগ সেলের দায়িত্বে রয়েছি। প্রতি দিনই অনেক ছাত্রছাত্রী এসে এখানে অভিযোগ জমা দিচ্ছেন। সেই সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন