ডাকঘরের শাখা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হলেন গ্রাহকেরা। দুর্গাপুরের এমএএমসি টাউনশিপে তৃণমূল কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার জমায়েত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বেশ কিছু গ্রাহক। এ দিনই আবার এবিএল টাউনশিপের ডাকঘরে গ্রাহকদের হয়রানির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম।

এমএএমসি টাউনশিপ গড়ে ওঠার সময়ে ডাকঘরও চালু হয় এলাকায়। কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে বহু প্রবীণ প্রাক্তন কর্মী এই ডাকঘরে ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে লগ্নি করেছেন। প্রতি মাসে এক বার ডাকঘরে গিয়ে টাকা তুলে তাতে সংসার চালান তাঁরা। অন্য নানা প্রয়োজনেও টাউনশিপের বাসিন্দারা ডাকঘরের পরিষেবা নেন। সম্প্রতি এই ডাকঘরটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাক বিভাগ। 

তারই প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার টাউনশিপের বিবেকানন্দ মূর্তির পাদদেশে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রাহকেরা। ছিলেন পুরসভার ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের দুই তৃণমূল কাউন্সিলর দেবব্রত সাঁই ও লাভলি রায়। সোমবার ডাকঘরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে গ্রাহকদের দাবি। দেবব্রতবাবু বলেন, ‘‘এই কর্মসূচির সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। হাজার তিনেক আমানতকারী রয়েছেন এই ডাকঘরে। ডাকঘর বন্ধ করে দিলে তাঁরা চরম বিপাকে পড়বেন।’’ অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করা হলে টানা আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। ডাকঘরের তরফে জানানো হয়েছে, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই নেবেন।

এ দিনই এবিএল টাউনশিপের ডাকঘরের বিরুদ্ধে বেহাল পরিষেবার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখায় সিপিএম। গ্রাহকদের অনেকের অভিযোগ, কাজে এসে নানা ভাবে হয়রান হতে হয় তাঁদের। কখনও ‘লিঙ্ক’ থাকে না, আবার কখনও কর্মী থাকেন না। ডাকঘরে বহু প্রবীণ গ্রাহক রয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হলেও তাঁদের বসার জন্য কোনও জায়গা নেই বলে অভিযোগ।

অবিলম্বে সমস্যা মেটানোর দাবিতে এ দিন সিপিএম নেতা-কর্মীরা ডাকঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখান। ডাকঘর কর্তৃপক্ষের হাতে স্মারকলিপিও দেন তাঁরা। ডাকঘর কর্তৃপক্ষ অবশ্য জানান, কর্মীরা সাধ্যমতো পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করেন।