এক নাবালিকাকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসানসোলের জাহাঙ্গিরমহল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ধৃতেরা ওই মেয়েটির আত্মীয়। বিয়ে দেওয়ার নাম করে তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। মেয়েটি কোনওমতে পালিয়ে আসার পরে ঘটনাটি তাঁরা জানতে পারেন বলে পরিজনদের দাবি।

রানিগঞ্জের রাজারবাঁধ এলাকার বাসিন্দা ওই মেয়েটির মা পুলিশকে জানিয়েছেন, গত ১৫ জুন তাঁর বছর পনেরোর মেয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাড়ি থেকে চলে যায়। বিস্তর খোঁজাখুঁজির পরে তাঁরা জানতে পারেন, মেয়ে আসানসোলে তাঁর ভাইয়ের বাড়িতে রয়েছে। তাঁরা সেখানে গেলে ভাইয়ের শ্বশুর-শাশুড়ি তাঁকে জানায়, তারা হরিয়ানায় মেয়েটির বিয়ে দিয়ে দিয়েছে। মহিলার অভিযোগ, ‘‘আমরা মেয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দিতে বলি। কিন্তু ওরা দু’জন তা পারেনি। আমাদের বলেছিল, মেয়ের শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ হলেই কথা বলিয়ে দেবে।’’

মহিলা অভিযোগ করেন, মাস চারেকের মধ্যে এক বারও মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করাতে পারেনি ওই দম্পতি। এরই মধ্যে ১৭ অক্টোবর রানিগঞ্জে ফিরে আসে তাঁর মেয়ে। মহিলার অভিযোগ, ‘‘মেয়ে আমাদের জানায়, তাকে আমার ভাইয়ের শ্বশুর-শাশুড়ি বিক্রি করে দিয়েছিল। দু’বার বিক্রি করা হয়েছিল হরিয়ানায়। ওকে দিয়ে খারাপ কাজ করানোর চেষ্টা হয়। শারীরিক নির্যাতন হত বলেও জানিয়েছে। কোনও ভাবে ও পালিয়ে এসেছে সেখান থেকে।’’ তিনি জানান, ঘটনার জেরে মেয়ে আতঙ্কে রয়েছে। ওই দু’জন-সহ এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের কড়া শাস্তির দাবি পুলিশকে জানিয়েছেন তাঁরা।

পুলিশ জানিয়েছে, ১৮ অক্টোবর সকালে আরিফ ফুলওয়ালা ও বিছিয়া বিবি নামে দু’জনকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। আসানসোল আদালতে তোলা হলে দু’জনকে ১২ দিন পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের জেরা করে আরও পাঁচ জন এই কাজে যুক্ত বলে জানা গিয়েছে। তারা ধানবাদ, হুগলির শেওড়াফুলি ও অসমের বাসিন্দা। এই ঘটনার তদন্তে আন্তঃরাজ্য নারীপাচার চক্রের হদিস মিলতে পারে বলে আশা করছেন তদন্তকারীরা।