প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দুর্গন্ধ ছড়ানোয় দিনের পর দিন ভুক্তভোগী হচ্ছেন আসানসোলের কালীপাহাড়ি, ছাতাপাথর, কাখোয়ার মতো কিছু এলাকার বাসিন্দারা। এই সমস্যার ব্যাপারে অবগত আসানসোল পুরসভা। কর্তাদের দাবি, রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যে আসানসোলে একটি মডেল ‘সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ পরিকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ হয়েছে। তার প্রাথমিক কাজকর্মও শুরু হয়ে গিয়েছে।

আসানসোল পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি রাজ্যের ন’টি শহরাঞ্চলকে মডেল হিসেবে ঘোষণা করে ‘সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট’ পরিকাঠামো গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার মধ্যে অন্যতম আসানসোল পুর এলাকা। ২০১৬ সালে কেন্দ্রীয় সরকার অনুমোদিত সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের আওতায় এই পরিকাঠামো গড়ার নির্দেশও পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রাথমিক কাজকর্ম শুরু হয়েছে বলে জানান আসানসোল পুরসভার কমিশনার তথা অতিরিক্ত জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি। তিনি জানান, পুরসভার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রয়োজনীয় নির্দেশও দিয়েছেন। এই কাজ দেখভালের জন্য দশ সদস্যের টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। পুরসভার তরফে ঝকঝকে সাফাই ও নিকাশি ব্যবস্থা চালুর পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা তৈরিতেও জোর দেওয়া হচ্ছে। সে জন্য কন্যাশ্রী ক্লাব ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বাড়ি-বাড়ি প্রচারের কাজে নামানো হবে। এলাকা জুড়ে টাঙানো হবে ব্যানার-হোর্ডিং।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীপাহাড়ি ও মঙ্গলপুরে দু’টি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। সে জন্য প্রয়োজনীয় জমির খোঁজ চলছে। আসানসোল ও কুলটির যাবতীয় আবর্জনা কালীপাহাড়ি প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। রানিগঞ্জ ও জামুড়িয়া থেকে সংগৃহীত জঞ্জাল নিয়ে যাওয়া হবে মঙ্গলপুরে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কেন্দ্র দু’টি গড়ার প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২২ কোটি টাকা হাডকো থেকে ঋণ বাবদ পাওয়া যাবে। বাকি টাকা পুরসভার তহবিল থেকে খরচের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি বিশদ প্রকল্প রিপোর্ট (ডিপিআর) রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর অনুমোদন করেছে।

পুরসভার আধিকারিকেরা জানান, সাফাইকর্মীরা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহ করবেন। তা একটি বড় গাড়িতে করে প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হবে। বাড়ির আবর্জনা যেখানে-সেখানে না ফেলার জন্য সচেতনতা তৈরির চেষ্টাও হবে। আবর্জনা নিয়ে যাওয়া গাড়িগুলির গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য প্রত্যেকটিতে জিপিএস যন্ত্র বসানো হবে। দু’টি বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রেই একাধিক সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। তাতেও গাড়ি ঢোকা-বেরোনোর তথ্য পাওয়া যাবে।

পুরসভার পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শহরের অনেকে। তবে তাঁদের অভিযোগ, ২০১৬ সালেও এই রকম একটি প্রকল্পের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা একচুলও এগোয়নি। ফলে, চরম দূষণে ভুগতে হচ্ছে কালীপাহাড়ি, ছাতাপাথর-সহ আশপাশের এলাকার বহু বাসিন্দাকে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত তাই আশ্বস্ত হতে পারছেন না শহরবাসী।