নির্দিষ্ট কোনও প্রতিশ্রুতি নয়। কারখানার কৌশলগত বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্তে মুষড়ে না পড়ে দুর্গাপুরের অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্টের (এএসপি) কর্মীদের ‘কাজ’ করার পরামর্শ দিলেন আসানসোলের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সোমবার কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাবুল বলেন, ‘‘ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। কৌশলগত বিলগ্নিকরণের যে খাঁড়া ঝুলছে, তা ভুলে কাজ করতে বলেছি। দিল্লিতে নীতি আয়োগ, ইস্পাত মন্ত্রক ও সেলের (স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া লিমিটেড) সঙ্গে আলোচনার পরে কী করা যাবে, তা এসে জানাব।’’

১৯৬৫ সালে চালু এই কারখানায় অলাভজনক হয়ে পড়ায় ২০১৬ সালে কেন্দ্রের অর্থ বিষয়ক ক্যাবিনেট কমিটি কৌশলগত বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করে। প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে শ্রমিক সংগঠনগুলি। সিটু এবং আইএনটিইউসি দিল্লিতে ইস্পাত মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানায়। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কারখানার গেটে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে তৃণমূলও। দলের সাংসদদের প্রতিনিধি দল ইস্পাত মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে। এমন পরিস্থিতিতে সেল কৌশলগত বিলগ্নিকরণের জন্য গ্লোবাল টেন্ডার ডেকে সাড়া পায়নি। শ্রমিক সংগঠনগুলি সাংসদ বাবুলের কাছে বিলগ্নিকরণ রুখতে নীতি আয়োগের প্রস্তাব আটকানো ও সংস্থার পুনরুজ্জীবনে সচেষ্ট হওয়ার অনুরোধ জানায়। ৬ জুন বাবুল শ্রমিক নেতাদের নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ইস্পাত সচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন। আপাতত বিলগ্নিকরণ রুখে বিকল্প কী পথ বের করা যায়, সে নিয়ে নীতি আয়োগের উপাধ্যক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন বাবুল। সোমবার তিনি আসেন কারখানা পরিদর্শনে।

বাবুল বলেন, ‘‘সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানাতে গেলে দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে চলা সংস্থা কী ভাবে লাভজনক করে তোলা সম্ভব, সে বিষয়ে নীতি আয়োগের অর্থনীতিবিদদের সামনে সুনির্দিষ্ট এবং যুক্তিপূর্ণ পরিকল্পনা রাখতে হবে। মাসখানেকের মধ্যে কারখানা কর্তৃপক্ষকে বিশদ রিপোর্ট দিতে বলেছি।’’ এ দিন নীতি আয়োগের তরফে বাবুলের সঙ্গে কেউ আসেননি। বাবুলের দাবি, নীতি আয়োগের সম্মতি নিয়েই তিনি এসেছেন। উপাধ্যক্ষ রাজীব কুমারের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে।

বৈঠকে আইএনটিটিইউসি নেতা অশোক কুণ্ডু জানান, আগে বিনিয়োগ দরকার। আধুনিকীকরণের পরেও কাঙ্খিত ফল না মিললে এএসপি-কে বাঁচাতে ডিএসপি-র সঙ্গে সংযুক্তির কথা ভাবা যেতে পারে। বিএমএস নেতা অরূপ রায়ের মতে, সংযুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তার আগে ডিএসপি-তে বিনিয়োগ দরকার। তাঁর কথায়, ‘‘ডিএসপি-র ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত না হলে এএসপি-কে বাঁচাবে কী করে?’’ সংযুক্তির পক্ষে সওয়াল করলেও আইএনটিইউসি নেতা সুদীপ্ত দাসের দাবি, দু’টি কারখানারই আধুনিকীকরণ প্রয়োজন। তবে সংযুক্তির প্রস্তাব উড়িয়ে সিটু নেতা বিজয় সাহার বক্তব্য, ‘‘কৌশলগত বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিনিয়োগের মাধ্যমে এএসপি-কে নিজের পায়ে দাঁড় করানোর ব্যবস্থা করতে হবে। ডিএসপি-র সঙ্গে সংযুক্তি হলে এএসপি-র বিশেষ ধরনের ইস্পাত তৈরির গরিমা মার খাবে।’’ 

তবে বৈঠক ইতিবাচক হয়েছে বলে দাবি করেছে সব ক’টি শ্রমিক সংগঠনই। এই তৎপরতা কি আসন্ন লোকসভা ভোটের কথা মাথায় রেখে? বাবুলের বক্তব্য, ‘‘দু’বছর ধরে প্রক্রিয়া চলছে। তখন ভোট কোথায় ছিল? তাছাড়া ৫ বছর অন্তর নির্বাচন তো আসবেই।’’