দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করা গিয়েছে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পরেই জানিয়েছিলেন পুলিশ-কর্তা। তবে গোটা একটা দিন পেরিয়ে গেলেও আসানসোলে ব্যাঙ্ক ডাকাতির ঘটনায় কেউ গ্রেফতার হয়নি। পুলিশ জানায়, দুষ্কৃতীদের দলে বাকিদের মুখ খোলা থাকলেও হেলমেট পরা এক জন ছিল। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সে এলাকার বাসিন্দা। ব্যাঙ্ক লুটের ঘটনায় বহিরাগত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে সে-ই ‘লিঙ্কম্যান’ ছিল বলে মনে করছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনা  জানান, জোরদার তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ‘‘আমরা আরও কিছু তথ্য পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। দুষ্কৃতীদের মোটরবাইকের নম্বর পেয়েছি। এলাকার কেউ দুষ্কৃতীদের সঙ্গে আছে, আমরা নিশ্চিত। দ্রুত ধরা হবে।’’ পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করছে সিআইডি। এ দিন সিআইডি-র একটি দল ব্যাঙ্কে ঘুরে যায়। দুষ্কৃতীদের স্কেচ আঁকানো হচ্ছে।

 বুধবার দুপুর দেড়টা নাগাদ আসানসোলের সেনর‌্যালে রোডের এক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে জনা দশেকের একটি দল ঢুকে লুটপাট চালায়। কমিশনারেটের এক পুলিশ-কর্তা অবশ্য জানান, ঘটনার কোনও সিসিটিভি ফুটেজ না থাকায় সমস্যা হচ্ছে। ব্যাঙ্কের সিসিটিভির হার্ডডিস্ক খুলে নিয়ে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। পুলিশের আশা ছিল, সেনর‌্যালে মোড় ও ২ নম্বর জাতীয় সড়কের সংযোগস্থলে পুলিশের সিসি ক্যামেরা থেকে দুষ্কৃতীদের ছবি পাওয়া যাবে। কিন্তু তা মেলেনি। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, একাধিক বার ফুটেজ পরীক্ষা করেও কিছু মেলেনি।

পুলিশের অনুমান, স্থানীয় ‘লিঙ্কম্যান’ রাস্তায় সিসি ক্যামেরার কথা জানত। তাই লুটপাটের পরে দুষ্কৃতীরা অন্য কোনও পথ ধরে পালায়। পুলিশ জানায়, সেনর‌্যালে মোড় ও জাতীয় সড়কের সংযোগস্থল ছাড়াও এলাকার একাধিক বাইলেন ধরে ২ নম্বর জাতীয় সড়কে ওঠা যায়। কিন্তু সেই রাস্তাগুলি ছোট ও ঘুরপথ। পরিচিত কেউ ছাড়া এই রাস্তা ধরে পালানো সম্ভব নয়।

তবে দুষ্কৃতীরা কী ভাবে এসেছিল, পুলিশ নিশ্চিত নয়। পুলিশ সুত্রের দাবি, স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীরা চারটি মোটরবাইকে এসেছিল। আবার কেউ-কেউ জানিয়েছেন, তারা একটি সাদা গাড়িতে এসেছিল। তবে যার মাথায় হেলমেট ছিল সে মোটরবাইকেই এসেছিল। তার খোঁজ পেলেই অনেক সূত্র মিলবে, মনে করছে পুলিশ।