নিগ্রহের প্রতিবাদ রয়েছে, তবু তিন দিন ধরেই কাজকর্ম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন কালনা, কাটোয়া দুই হাসপাতালের ডাক্তারেরা।

কলকাতার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র ডাক্তারদের নিগ্রহ, মারধরের প্রতিবাদে বুধবার মিছিল করেছিলেন কালনার চিকিৎসকেরা। বন্ধ রাখা হয়েছিল বহির্বিভাগ। কিন্তু জরুরি বিভাগ চালু ছিল পুরোদমে। ডাক্তারদের দাবি, চিকিৎসার প্রয়োজনে এসে কাউকে ফিরে যেতে হয়নি। শুক্রবার জরুরি বিভাগ তো বটেই, বহির্বিভাগ চালু ছিল এখানে। কাটোয়ায় এ দিন কালো ব্যাজ পড়ে পরিষেবা দেন ডাক্তার, নার্সেরা। খোলা ছিল সমস্ত বিভাগ।

কালনা মহকুমা হাসপাতালের পাশে রয়েছে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল। দুই হাসপাতাল মিলে প্রায় সাড়ে চারশো শয্যা রয়েছে। রোগী ভর্তি রয়েছেন চারশোরও বেশি। হাসপাতালের দাবি, এ দিন দেড় হাজারেরও বেশি রোগী বহির্বিভাগ থেকে পরিষেবা নিয়েছেন। স্বাভাবিক ছিল ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিষেবা। রুটিন অনুযায়ী ছোট, বড় অস্ত্রোপচার হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। চিকিৎসা করেছেন জুনিয়র, সিনিয়র সব ডাক্তারই। এক রোগীর আত্মীয় পূর্ণিমা কর্মকার বলেন, ‘‘নানা জায়গায় চিকিৎসকেরা পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে শুনছি। এখানে কিছু টের পাইনি।’’ হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বরাই বলেন, ‘‘যে ঘটনা ঘটেছে তা নিন্দনীয়। চিকিৎসকেরা প্রাণ বাঁচাবেন আবার মারও খাবেন এটা ঠিক নয়। আমরা মানবিকতার কথা মাথায় রেখে সমস্ত বিভাগ খোলা রেখেছি।’’

কাটোয়ায় বৃহস্পতি, শুক্র দু’দিনই বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগ খোলা ছিল। আইএমএ’র কাটোয়া শাখার সম্পাদক সোমনাথ মুখোপাধ্যায় জানান, তাঁরা প্রতীকি আন্দোলনের মাধ্যমে এনআরএস কান্ডের প্রতিবাদ করছেন। রোগীদের পরিষেবাও দিচ্ছেন। তবে শহরের বহু ডাক্তারের চেম্বার বন্ধ ছিল এ দিন।