‘চেন-খুনি’ বলে অভিযুক্ত কামরুজ্জমান সরকারের রক্তের নমুনা পাঠানো হচ্ছে হায়দরাবাদের সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে। বুধবার এ ব্যাপারে কালনা আদালতের অনুমতি নেয় পুলিশ। পরে বাড়িকে একা থাকা একাধিক মহিলাকে খুন ও নির্যাতনে অভিযুক্ত ওই যুবককে কালনা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সম্প্রতি কামরুজ্জামানের চুলের নমুনাও পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিল পুলিশ।

কালনা থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, হাটকালনা এলাকায় খুন হওয়া এক মহিলার হাতের মুঠোয় মিলেছিল বেশ কিছু চুল। তদন্তে নেমে পুলিশ অনুমান করে, মৃত্যুর আগে আততায়ীর সঙ্গে ধস্তাধস্তির ফলেই ওই চুল মৃতার হাতে উঠে আসে। তদন্তকারীদের দাবি, ধরা পড়ার পরে জেরায় ওই মহিলাকে খুনের কথা স্বীকার করে কামরুজ্জামান। এর পরেই উদ্ধার হওয়া চুল এবং অভিযুক্তের চুল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে।

তদন্তকারীদের দাবি, চুলের নমুনা পাঠানোর পরে হায়দরাবাদের বিশেষজ্ঞরা জানান, চুলের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে। তাই রক্ত পরীক্ষারও প্রয়োজন রয়েছে। ওখান থেকে একটি ফর্মও পাঠানো হয়। তাতে আদালতের অনুমতি নিয়ে কার রক্ত নেওয়া হচ্ছে, কোন চিকিৎসক রক্ত সংগ্রহ করছেন, ম্যাজিস্ট্রেটের নাম, তদন্তকারী অফিসারের নাম-সহ বেশ কিছু তথ্য জানাতে বলা হয়। এ দিন কালনা থানার আধিকারিক বলেন, ‘‘সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে রক্তের নমুনা বৃহস্পতিবার পাঠানো হবে।’’

কালনা, মন্তেশ্বর, হুগলির নানা খুনের মামলায় নাম রয়েছে কামরুজ্জামানের। বর্তমানে হুগলি জেলার পুলিশ তাকে জেরা করছে। এ দিন রক্তের নমুনা সংগ্রহ করার পরে তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় হুগলিতে। এ ছাড়াও ওই মামলাগুলির তত্ত্বাবধানের জন্য বুধবার থেকে এক জন ‘স্পেশ্যাল’ সরকারি আইনজীবী বহাল করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই আইনজীবীর নাম সৌম্যজিৎ রাহা। এ দিন তাঁর এক প্রতিনিধি মামলাগুলি খোঁজখবর করেন। আইনজীবীরা জানান, ১২ সেপ্টেম্বর থেকে কালনার অতিরিক্ত জেলা এবং দায়রা বিচারকের আদালতে ওই মামলাগুলির বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।