ঘর তৈরির নামে ‘কাটমানি’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল সুপারভাইজারের নামে। টাকা ফেরতের দাবি উঠতেই বেপাত্তা হয়ে যান তিনি। রবিবার রাতে কেতুগ্রামের শিবলুনে ওই টাকা ফেরালেন তাঁর বাবা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, কাটমানি ফিরিয়েছেন কেতুগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার স্বামীও।

গত সপ্তাহে কাটমানি ফেরতের দাবিতে নবগ্রাম পঞ্চায়েতে স্মারকলিপি দিয়েছিলেন বিজেপি কর্মীরা। তার পর থেকে বিভিন্ন গ্রামে টাকা ফেরানোর দাবিতে বিক্ষোভ, সভা হয়। স্থানীয় সূত্রের খবর, শনিবার এই পঞ্চায়েতের শিবলুন মণ্ডপতলায় সালিশিসভায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের ডেকে রবিবার টাকা ফেরানোর কথা বলা হয়। কয়েকজন হাজির থাকলেও ওই সুপারভাইজার রঞ্জিত কোনাই ছিলেন না। গ্রামবাসীদের দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে নেওয়া ২৫ হাজার টাকা পাঁচ জনকে ফিরিয়ে দেন রঞ্জিতবাবুর বাবা বেলু কোনাই। টাকা পেয়ে সরস্বতী কোঁড়া, সিদ্ধেশ্বরী কোঁড়ারা বলেন, ‘‘ঘর তৈরির জন্য যার কাছে যেমন পেয়েছে তেমনই টাকা নিয়েছিল রঞ্জিত ও বেশ কিছু তৃণমূলের নেতারা। সভায় রঞ্জিত আসেনি। ওর বাবা টাকা দিয়ে গেল।’’ বেলুবাবুর দাবি, ‘‘ছেলে বারাসতে মিষ্টির দোকানে কাজে  গিয়েছে। আমায় টাকা দিতে বলেছিল তাই গিয়েছিলাম।’’ তবে ওই টাকা কেন নেওয়া হয়েছিল জানেন না বলেই তাঁর দাবি।

গ্রামবাসীদের একাংশের দাবি, ভাগচাষি রঞ্জিত তৃণমূলের বড় মাপের নেতা নন। তবে ঘর তৈরি, একশো দিনে কাজ না করেও জবকার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নিতেন তিনি। তৃণমূলের মিটিং-মিছিলে লোক জড়ো করা, সভার প্রস্তুতির কাজ করতেন। সাবমার্সিবলের জল দেওয়ার জন্যও টাকা নেওয়া হত বলে অভিযোগ। এ সব কাজে ছেলের সঙ্গে বেলুবাবুও থাকতেন বলে অভিযোগ। বিজেপি নেতা অনিল দত্তের দাবি, ‘‘তৃণমূল না করলে ভয় দেখাত রঞ্জিত। এখন নিজে ভয় পেয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।’’

শনিবার ওই গ্রামে বাবুসোনা ওরফে উদয় প্রধান নামে এক তৃণমূল নেতাও জনা চারেক উপভোক্তাকে ঘর তৈরি বাবদ নেওয়া ২০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন, দাবি বেশ কিছু গ্রামবাসীর। ওই নেতার স্ত্রী বকুলা প্রধান কেতুগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যও। বিজেপির অভিযোগ, শিবলুন খেলার মাঠেও সংস্কার না করেও বিধায়ক তহবিলের ১৭ লক্ষ টাকা নয়ছয় করেছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতারা। উদয়বাবু বা তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে অবশ্য যোগাযোগ করা যায়নি। মন্তব্য করতে রাজি হননি বিধায়ক শেখ সাহানেওয়াজও। কেতুগ্রাম ২ ব্লক তৃণমূল সভাপতি বিকাশ মজুমদারের দাবি, ‘‘টাকা ফেরতের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এলাকায় অশান্তি তৈরির জন্য বিজেপি উস্কানি দিচ্ছে।’’