কল্পতরু ময়দানের সুইমিং পুল থেকে দেহ মিলেছিল এক কলেজ ছাত্রের। পরিকল্পনা করে খুনের অভিযোগ করেছিলেন মৃত রমেন সামন্তের বাবা দেবকুমার সামন্ত। ছ’বছর পরে ওই মামলার তদন্তভার সিবিআইকে দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

শুক্রবার বিচারপতি দেবাংশু বসাক রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেন, সিবিআইয়ের হাতে তদন্তের নথি তুলে দিতে। সম্প্রতি রাজ্য সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সিবিআইকে কোনও তদন্তের অনুমতি দেওয়া হবে না। তার পরে এ রাজ্যের কোনও মামলার তদন্তের ভার পেল সিবিআই।

২০১২ সালের ২ সেপ্টেম্বর রাতে রমেনের দেহ মেলার ঘটনায় সিআইডি অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত করে জানিয়েছিল, বিবেকানন্দ কলেজের ইংরেজি অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ওই ছাত্র জলে ডুবে মারা গিয়েছেন। তদন্তে সন্তুষ্ট না হয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রমেনের বাবা দেবকুমারবাবু। এ দিন এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি বসাক রাজ্যের কৌঁসুলির উদ্দেশে মন্তব্য করেন, ‘‘সুইমিং পুলের জলে ডুবে কারও মৃত্যু হলে তাঁর ফুসফুসে বালি থাকবে কী করে? সুইমিং পুল তো কংক্রিটের!’’

দেবকুমারবাবুর আইনজীবী ভাস্করপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, দেহ উদ্ধারের পরের দিন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়না-তদন্ত হয়। ভিডিয়োগ্রাফিও হয়েছিল। কিন্তু ময়না-তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে রমেনের দেহের একাধিক আঘাতের চিহ্ন নিয়ে কিছু বলা ছিল না। এর পরেই কলকাতার কোনও মেডিক্যাল কলেজে তাঁর ছেলের পুনরায় ময়না-তদন্ত ও তার ভিডিয়োগ্রাফির ফুটেজ চেয়ে বধর্মানের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন জানান দেবকুমারবাবু। সেই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সিবিআই তদন্ত চেয়ে ফের হাইকোর্টে মামলা করেন দেবকুমারবাবু। আবেদনে ভিডিয়োগ্রাফির ফুটেজও চাওয়া হয়। ওই আইনজীবী জানান, ২০১৫ সালের ১৮ জুন হাইকোর্ট রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় দেবকুমারবাবুকে ভিডিয়োগ্রাফির ফুটেজ দিতে। ওই ফুটেজ রমেনের বাবা ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ অজয়কুমার গুপ্তের কাছে নিয়ে গিয়ে তাঁর নিরপেক্ষ মতামত চান। বিশেষজ্ঞ জানিয়ে দেন, আসল ফুটেজ থেকে বিভিন্ন অংশ বাদ দিয়ে ‘বিকৃত’ একটি ফুটেজ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। 

এ দিন বিচারপতি সরকারি কৌঁসুলির কাছে জানতে চান, নিম্ন আদালতে মামলার বিচার শুরু হয়েছে কি না। সরকারি কৌঁসুলি অসীম গঙ্গোপাধ্যায় আদালতে জানান, পুলিশ নিম্ন আদালতে মামলার চার্জশিট পেশ করলেও বিচার শুরু হয়নি।

রমেনের পরিবার ওই সুইমিং পুলের পরিচালনায় ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, রাত ৮টা পর্যন্ত পুলের কেয়ারটেকারের কাছে ছেলের জামাকাপড় ও মোবাইল ফোন জমা ছিল। তার পরেও খোঁজ করা হয়নি। পুলের ধারে সমাজবিরোধীদের আসর বসত বলেও দাবি করেন তিনি। সিআইডি-র দায়ের করা চার্জশিটে কর্তব্যে গাফিলতির কথা বলা হয়। ওই পুলের কেয়ারটেকারের ও প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ে। গ্রেফতারও করা হয় তাঁদের। কিন্তু কিছু পাওয়া যায়নি বলে ছাড়া পান তাঁরা।

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

এ দিন সন্ধ্যায় দেবকুমারবাবু বলেন, ‘‘এখনই কিছু বলব না। হাইকোর্টের নির্দেশ পেলে আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে তবেই কথা বলব।’’