• সুচন্দ্রা দে

সংগঠনের জোর নিয়ে তরজা দু’দলে

1
ফাইল চিত্র।

Advertisement

তিনটি কারণ। আর তা দেখিয়েই বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কাটোয়া মহকুমায় দলের সংগঠন আগের থেকে অনেক চাঙ্গা হয়েছে। তবে, তৃণমূল এই দাবিকে মোটেও আমল না দিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির কথা তুলে ধরছে।
সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিজেপি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিন রকম যুক্তি—
 
লোকসভা ভোটের ফল
২০১৪-র লোকসভা ভোটে কাটোয়া বিধানসভা এলাকায় (দু’টি পুরসভা এলাকা, পাঁচটি ব্লক) তৃণমূল, বিজেপির ভোটপ্রাপ্তি ছিল যথাক্রমে ২৭.৩২ শতাংশ, ১৫.৮২ শতাংশ। ২০১৬-র বিধানসভায় তা যথাক্রমে হয় ৪৪.৮১ শতাংশ, সাত শতাংশ। ২০১৫-র পুরভোটে কাটোয়া ও দাঁইহাটে বিজেপির প্রাপ্তি ছিল যথাক্রমে শূন্য ও এক। কিন্তু ২০১৯-র লোকসভায় তৃণমূলকে টেক্কা দিয়ে এই বিধানসভা এলাকায় ভোটপ্রাপ্তির নিরিখে বিজেপি উঠে আসে এক নম্বরে (৪২.০২ শতাংশ)। তৃণমূল পায় ৪১.১৪ শতাংশ ভোট। পাশাপাশি, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের নিরিখে কাটোয়ার ২০টির মধ্যে ১৫টিতে, দাঁইহাটের ১৪টির মধ্যে ন’টি ওয়ার্ডেই এগিয়ে ছিল বিজেপি। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, তাঁরা তৃণমূলকে টক্কর দিতে ‘আত্মবিশ্বাসী’। যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, ‘‘কাটোয়ায় লোকসভা ভোটের ফল পর্যালোচনা হয়েছে। মানুষ আমাদেরই সমর্থন করবেন
আগামী দিনে।’’
প্রসঙ্গ ‘দলবদল’
বিজেপির দাবি, লোকসভার ফলের পরে অন্য দলের নেতা-কর্মীরা তাঁদের শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। উদাহরণ হিসেবে, সাবেক কংগ্রেস নেত্রী শ্যামা মজুমদার, কাটোয়ার প্রাক্তন সিপিএম কাউন্সিলর কৌশিক চট্টোপাধ্যায়, তৃণমূল পরিচালিত কেতুগ্রাম ২ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মথুরা ঘোষ, সমিতির সদস্য বন্দনা মুখোপাধ্যায় এবং তাঁদের হাত ধরে ওই সব দলের কর্মীদের বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার কথা বলছেন নেতারা। এ ছাড়া পেঁকুয়া-ভাটনা, কাটোয়া পুরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের বহু মানুষও দলে যোগ দিয়েছেন বলে বিজেপি নেতৃত্বের দাবি। তবে এ সবে আমল না দিয়ে কাটোয়ার তৃণমূল বিধায়ক তথা  পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘এ সব দলবদলের মধ্যে অনেক কথাই ‘জল মেশানো’। পানুহাট ও শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় এক হাজার মানুষ বিজেপি থেকে
তৃণমূলেও এসেছেন।’’ 
 

সাংগঠনিক কর্মসূচি

বিভিন্ন দল থেকে লোকজন আসা এবং নতুন সদস্য ‘বৃদ্ধির’ ফলে তৃণমূল স্তরে তাঁদের সংগঠন আগের তুলনায় অনেক মজবুত বলে দাবি বিজেপির। গোটা মহকুমায় গত পঞ্চায়েতে মনোনয়নও জমা দিতে পারেনি বিজেপি-সহ বিরোধীরা। অথচ, ‘কাটমানি-বিতর্কের’ সময়ে মহকুমার প্রায় প্রতিটি পঞ্চায়েতে দুর্নীতি-রোধে স্মারকলিপি দেওয়া, দলীয় কর্মীদের ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর’ প্রতিবাদে ব্লক অফিস ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি সফল হয়েছে বলে দাবি বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক অনিল দত্তের। পাশাপাশি, প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ দেখানো, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প ও রাজ্যে ‘বাধাপ্রাপ্তি’র বিষয়ে প্রচার চলছে বলে দাবি তাঁর। সেই সঙ্গে ২০১৬-র বিধানসভার তুলনায় ২০১৯-র লোকসভা ভোটের আগে এই মহকুমায় ছ’টি কার্যালয়ও বেড়েছে বলে দাবি বিজেপির। তবে বিজেপির দাবিগুলিকে আমল না দিয়ে তৃণমূল নেতা রবীন্দ্রনাথবাবুর দাবি, ‘‘সম্প্রতি ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির সাফল্য বলে দিচ্ছে মানুষ কার পাশে।’’ স্বপনবাবুরও দাবি, ‘‘‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি কাটোয়ায় অত্যন্ত সফল।’’ দাঁইহাটের পুরপ্রধান শিশির মণ্ডলের বক্তব্য, ‘‘এখানে বিজেপির একটা কার্যালয় রয়েছে। প্রায়ই তা লোকাভাবে বন্ধ থাকে।’’ বিজেপি অবশ্য তা স্বীকার করেনি।
এ সব যুক্তি-প্রতি যুক্তির মাঝে চর্চায় আসছে সব ঠিক থাকলে আগামী বছর কাটোয়া ও দাঁইহাটে পুরভোটের প্রসঙ্গও। বিজেপির জেলা সভাপতি (বর্ধমান পূর্ব) কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, ‘‘মহকুমার দু’টি পুরসভা নানা সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ করেছে। ‘কাটমানি’ নেওয়া তৃণমূল নেতাদের তালিকা তৈরি করছি আমরা। আগামী পুরভোটে এটাই আমাদের হাতিয়ার।’’ পাশাপাশি, কাটোয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠী-কোন্দলও তাঁদের ‘সুবিধা’ করবে বলে ধারণা বিজেপির স্থানীয় নেতা, কর্মীদের একাংশের। যদিও বিজেপির তোলা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল। রবীন্দ্রনাথবাবুর বক্তব্য, ‘‘কোথাও দ্বন্দ্ব, দুর্নীতির প্রশ্নই নেই। বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন।’’ একই বক্তব্য শিশিরবাবুরও।

Advertisement

আরও পড়ুন
বাছাই খবর
আরও পড়ুন