• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

‘ভুয়ো’ পোস্ট, জড়াল তৃণমূল নেতার নামও

Coronavirus
প্রতীকী ছবি

‘সোশ্যাল মিডিয়া’য় ভুয়ো পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মেমারির বোহার গ্রামের বাসিন্দা পার্থসারথি মজুমদারের অভিযোগের ভিত্তিতে সৈকত সিংহ নামে ওই যুবককে ধরে পুলিশ। পরে তৃণমূলের জেলা যুব নেতা আশিস ঘোষ দস্তিদারও একই ধরনের পোস্ট করেন। এ বার মেমারি থানায় অভিযোগ জানান পার্থসারথিবাবুর স্ত্রী মৈত্রেয়ী সিংহরায়। ওই নেতা অবশ্য অভিযোগ মানেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, গত দু’দিন ধরে ‘ভাইরাল’ হওয়া পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ‘বোহার হাইস্কুলের দিদিমনি মৈত্রী দি মেমারির সিপিএম নেতা সনৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়। তাঁর ছেলে সম্প্রতি লন্ডন থেকে ফিরে এসেছেন। মেমারির বেশ কিছু বাড়িতে ‘ঘাপটি’ মেরে বসে থাকার পরে আশাকর্মীর চাপে ডাক্তারের কাছে যান। করোনা সন্দেহ হওয়ায় ওই চিকিৎসক চেম্বার বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। দিদিমণি আর তার পরিবার থানার ভয়ে পালিয়েছেন। শিক্ষিত মানুষষের এই আচরণ লজ্জাজনক’। এর পরেই শনিবার সকালে পার্থসারথিবাবু পুলিশকে জানান, তাঁর ছেলে ব্রিটেনের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন। করোনাভাইরাসের জন্য তিনি সেখানে ঘরবন্দি। এ রকম পোস্টে তাঁরা বিভ্রান্ত। পুলিশকে চার জনের নামও জানান তিনি। তাদের মধ্যে সৈকতকে শনিবার ধরে পুলিশ।

ওই দিনই বেলা ৪টে নাগাদ আশিসবাবু একটি পোস্ট করেন। সেখানে বলা হয়, ‘নবপল্লীর তাবড় নেতার শিক্ষিকা শ্যালিকার লন্ডন ফেরত ছেলেকে ডাক্তার দেখাতে বলা হলেও সে ফেরার’। ঘটনাচক্রে, সিপিএম নেতা সনৎবাবুর বাড়ি নবপল্লি এলাকায়। তাঁর শ্যালিকা মৈত্রেয়ীদেবী। এর পরেই থানায় লিখিত অভিযোগ করে ওই শিক্ষিকা জানান, ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণে গোটা বিশ্ব কাঁপছে। সেই সময়ে আমার ছেলের আসা নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। অভিযোগ করার পরেও আশিস ঘোষ দস্তিদার নামে জনৈক ব্যক্তি একই পোস্ট করেছেন’।

ব্রিটেনের ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভিডিয়ো-বার্তায় মৈত্রেয়ীদেবীর ছেলে অরিত্রও জানান, ২০১৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর তিনি গবেষণার জন্য বিদেশে যান। আর ফেরেননি। তাঁর দাবি, এ রকম ভুয়ো পোস্ট করার ফলে শুধু আমার পরিবার নয়, মেমারির অনেকেই চিন্তিত।

সিপিএমের জেলা কমিটির সদস্য সনৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী যেখানে গুজব ছড়াতে নিষেধ করছেন, সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দিয়ে এক তৃণমূল নেতা দায়িত্বজ্ঞানহীন কান্ড ঘটান কী ভাবে?” আশিসবাবুর অবশ্য দাবি, “আমি তো কারও নাম দিয়ে কিছু পোস্ট করিনি। এ নিয়ে কিছু বলব না।’’ তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, ওই পোস্ট নিয়ে আশিসবাবুকে জেলা নেতৃত্বের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে। জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ মণ্ডল বলেন, “যেখানে যা বলার বলে দিয়েছি।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন