• প্রণব দেবনাথ
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কলের জলের সঙ্গে শ্যাওলা বিনা মূল্যে

Drinking Water
সঙ্কট পানীয় জলের। নিজস্ব চিত্র

শহরের নানা রাস্তা ও অলিগলিতে নতুন পাইপলাইন বসেছে। কিন্তু জল সরবরাহের মূল পাইপলাইনটিই রয়ে গিয়েছে পুরনো। তার জেরে নোংরা জল মেলে, অভিযোগ বাসিন্দাদের। পুরভোট এলেই পূর্ব বর্ধমানের দাঁইহাটে পানীয় জল চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। কিন্তু সমস্যা মেটাতে কোনও পক্ষই উপযুক্ত পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ শহরবাসীর অনেকের।

পুরসভা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে জল সরবরাহের মূল পাইপলাইনটি পাতা হয়েছিল প্রায় ৩৫ বছর আগে। পুরসভা অফিসের সামনে থেকে শুরু করে দেওয়ানগঞ্জ, ভাউসিংপাড়া, বাজারপাড়া, চামপচা রোড, স্টেশন রোডের মতো জায়গা দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল লাইনটি। তার পরে ধাপে-ধাপে শহরের অন্য ছোট রাস্তা ও গলির ভিতরে নতুন পাইপলাইন বসানো হয়।

শহরের প্রায় সব ওয়ার্ডের নাগরিকদেরই অভিযোগ, কয়েকবছর ধরে কল থেকে নোংরা জল মেলে। শ্যাওলা ভেসে আসে জলের সঙ্গে। খাওয়া তো দূর, স্নান করতে হলেও সেই জল ছেঁকে নিতে হয় বলে দাবি তাঁদের অনেকেরই। বাসিন্দাদের অভিযোগ, পুরনো পাইপলাইনের উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ বা প্রয়োজন অনুযায়ী না বদল করার জেরেই এই সমস্যা। পাইপের গায়ে লেগে থাকা নোংরা ও শ্যাওলা জলের সঙ্গে ট্যাপকলে পৌঁছে যাচ্ছে। তাতেই বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা।

বৈরাগ্যপাড়ার বাসিন্দা গোপীনাথ বৈরাগ্য, দীপু দেবনাথদের কথায়, ‘‘আমাদের শহরে বড় সমস্যা জল। দিনে চার বার জল পেলেও তা পানীয় হিসাবে ব্যবহার করতে পারি না। প্রায়ই জলের সঙ্গে নোংরা বেরোতে দেখা যায়। অনেক সময়ে প্রচুর শ্যাওলাও জলের সঙ্গে ভেসে আসতে দেখা যায়। জলের সঙ্গে যেন বিনা মূল্যে শ্যাওলা দেওয়া হয়!’’ তাঁদের অভিযোগ, ‘‘বহু বছর ধরে শহরের পুরনো পাইপলাইন বদলানো হয়নি। ফলে, সেগুলিতে নোংরা জমে মোটা আস্তরণ হয়ে গিয়েছে। তাই কালো আবর্জনা-যুক্ত জল কল থেকে বেরোতে দেখা যায়।’’ 

ভোটের আগে উপযুক্ত পানীয় জল সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও পরে কোনও দলই সেই কথা রাখে না বলে অভিযোগ নাগরিকদের একাংশের। তাঁদের দাবি, ২০১৫ সালে ভোটের আগে সিপিএম নেতৃত্ব আশ্বাস দিয়েছিলেন, ক্ষমতায় এলেই পুরনো পাইপলাইন পাল্টে দেওয়া হবে। কিন্তু তা হয়নি। বছর দু’য়েক আগে অনাস্থা এনে পুরবোর্ড দখল করার সময়ে একই প্রতিশ্রুতি দেন তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু এখনও কোনও উদ্যোগ হয়নি বলে অভিযোগ।

দাঁইহাট পুরসভার বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান সিপিএমের বিদ্যুৎবরণ ভক্ত অভিযোগ করেন, ‘‘আমরা ক্ষমতায় থাকার সময়ে পুরনো পাইপলাইন পাল্টানোর একটি প্রকল্প করেছিলাম। তৃণমূল পুরবোর্ড দখল করার পরে তা কার্যকর করল না। নোংরা জল পান করে অনেকে পেটের রোগে ভুগছেন।’’ তাঁর আরও দাবি, এ নিয়ে বোর্ড মিটিংয়ে বারবার তাঁরা সরব হলেও কর্ণপাত করা হচ্ছে না।

দাঁইহাটের পুরপ্রধান তৃণমূলের শিশির মণ্ডলের অবশ্য বক্তব্য, ‘‘পুরনো পাইপগুলি পাল্টানোর জন্য খুব চেষ্টা করছি। সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে প্রাথমিক পর্যায়ে কথাও বলেছি। নাগরিকদের পরিস্রুত পানীয় জল দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে অতিরঞ্জিত ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছেন।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন