• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ডিনের পদ শূন্য, কাজ থমকে থাকায় বিক্ষোভ

Burdwan University
বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়। —ফাইল চিত্র।

বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ও কলা, দুটি বিভাগেই ডিন নেই। ফলে আটকে থাকছে গবেষণা সংক্রান্ত নানা কাজ। এমনকি, গবেষণা-ভাতাও মিলছে না বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার প্রায় ৬০ জন রিসার্চ স্কলার ডিন নিয়োগ করে নিয়মিত গবেষণা সংক্রান্ত সমস্যা মেটানোর জন্য দাবি নিয়ে উপাচার্যের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখান। পরে উপাচার্য তাঁদের দু’জন প্রতিনিধিকে ডেকে এ মাসের মধ্যেই ডিন নিয়োগ করে সমস্যা মেটানোর আশ্বাস দেওয়ায় বিক্ষোভ তুলে নেন রিসার্চ স্কলারেরা। উপাচার্য নিমাই সাহার দাবি, “ডিন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।’’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে প্রায় দু’বছর ধরে ডিন নেই। আর কলা বিভাগে বেশ কয়েক মাস ধরে ডিন নেই। রিসার্চ স্কলারদের অভিযোগ, ডিন না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই পড়ে রয়েছে গবেষণাপত্র।  ‘বোর্ড অফ রিসার্চ স্টাডিজে’র  (বিআরএস) বৈঠক আটকে থাকায় গবেষকদের ডিগ্রি ছাড়াই বসে থাকতে হচ্ছে। ফলে দেশের অন্যত্র বা বিদেশে সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারছেন না তাঁরা। বিক্ষোভকারী অয়ন মণ্ডল, আবু তাহের, সোমাশ্রী দাঁ-রা বলেন, “এক-দেড় বছর ধরে বিভিন্ন বিভাগের গবেষণাপত্র আটকে রয়েছে। ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছি। এর আগেও উপাচার্যের কাছে এসেছিলাম। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন। এ বারেও তাই।’’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিন না থাকায় ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের বৈঠক ডাকা নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সব বৈঠকে স্নাতকোত্তর স্তরে প্রতিদিন কী প্রক্রিয়ায় শিক্ষক ও পড়ুয়ারা তাদের পাঠক্রম ও গবেষণা এগিয়ে নিয়ে যাবেন, তা ঠিক হয়। বিআরএস হচ্ছে না বলে নতুন গবেষকদের রেজিস্ট্রেশন আটকে রয়েছে। গবেষকদের ভাতা পেতেও সমস্যা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকদেরও দাবি, “বিভিন্ন কলেজের গবেষণাগারগুলির নজরদারি করা ডিনের অন্যতম কাজ। সেটাও আটকে রয়েছে। শিক্ষকদেরও অনেক কাজে সমস্যা হচ্ছে।’’ 

কিন্তু ডিন নিয়োগ আটকে রয়েছে কেন? বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে ডিন নিয়োগের জন্য ২০১৭ সালের ২৪ জুন চিঠি পাঠিয়েছিল উচ্চশিক্ষা দফতর। সেখানে তিন জনের একটি ‘সার্চ কমিটি’ গঠন করা হয়। ডিন নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে বেশ কয়েকবার চিঠি করা হয়, উচ্চশিক্ষা দফতর থেকে বারেবারে জবাব দেওয়া হয়, সার্চ কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয়কে সবিস্তারে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেই চিঠির খোঁজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দফতর, রেজিস্ট্রার দফতর পায়নি। পরে উপাচার্য নিমাই সাহা গত বছর নভেম্বরে সেই চিঠি নিয়ে এসে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ডিন নিয়োগ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। রেজিস্ট্রার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “বিজ্ঞান বিভাগে ডিন নিয়োগ খুব দ্রুত হবে। আর কলা বিভাগের ডিন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন