ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু হল দুই যুবকের। সোমবার পানাগড়-দুবরাজপুর রাজ্য সড়কের কাঁকসার ২ নম্বর কলোনির কাছে চাঁদা আদায়ের সময়ে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। পুলিশ জানায়, মৃত পাপ্পু যাদব (৩৫) ও সঞ্জয় বৈরাগ্যের (২২) বাড়ি ২ নম্বর কলোনি এলাকায়। ডাম্পারটির চালক ও খালাসিকে আটক, করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ একটি পাথর বোঝাই ডাম্পার পানাগড়ের দিকে যাচ্ছিল। দ্রুত গতিতেই সেটি ছুটছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। সেই সময়ে সামনে পড়ে যান পাপ্পু ও সঞ্জয়। ডাম্পারটি তাঁদের পিষে দিয়ে চলে যায়। খবর পেয়ে পৌঁছয় কাঁকসা থানার পুলিশ। পাপ্পুর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সঞ্জয়কে উদ্ধার করে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিসকেরা জানান, তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাম্পারটিকে পানাগড় বাইপাসের কাছে আটক করা হয়। সেখানে ক্ষুব্ধ জনতা গাড়িটির চালক ও খালাসিকে মারধরও করে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ দু’জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে দু’জনের দেহের ময়না-তদন্ত হয়।

ঘটনার পরেই নিত্যযাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করেন, ২ নম্বর কলোনির ওই জায়গায় কয়েক দিন ধরে বেশ কিছু যুবক গাড়ি আটকে চাঁদা তুলছিলেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের পাশেই রয়েছে একটি শিবমন্দির। শ্রাবণ মাসে শিবমন্দিরে পুজো হয়। সেই পুজোর জন্য এলাকার কিছু যুবক চাঁদা আদায় করছেন। লাঠি হাতে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বিপজ্জনক ভাবে চাঁদা তোলা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মোটরবাইক আরোহী দাবি করেন, ‘‘ওই যুবকেরা খুবই বিপজ্জনক ভাবে গাড়ি থেকে চাঁদা আদায় করছিলেন। কেউ নিষেধ করলেও কান দিচ্ছিলেন না।’’ স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, ওই দুই যুবকও চাঁদা তুলতে গিয়ে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ জানায়, কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।