দরজা খোলা পেয়ে ছাদে উঠে গিয়েছিল কুকুরটি। পরে অন্ধকারে জ্বলজ্বলে চোখ দেখে সন্দেহ হয় ওই বাড়ির এক যুবকের। টর্চের আলো ফেলে দেখা যায়, দোতলা ছাদের কার্নিশে গুটিসুটি মেরে বসে রয়েছে কুকুরটি। খবর দেওয়া হয় দমকলে। আট কর্মীর ঘণ্টা খানেকের চেষ্টায় নামানো হয় সেটিকে।

কাটোয়ার মাধবীতলার ওই বাড়ির ছেলে রূপসান্নিধ্য দে-র দাবি, সোমবার রাত ৯টা ১৫ নাগাদ বাড়িতে ফিরে ছাদে ওঠেন তিনি। তার পরেই হয়তো উঠে এসেছিল কুকুরটি। তবে সিঁড়িতে অন্ধকার থাকায় কিছু বুঝতে পারেননি তিনি। তাঁর দাবি, এক ছাদ থেকে আর এক ছাদে লাফ দিতে গিয়েই কোনও ভাবে পড়ে কার্নিশে আটকে যায় সেটি। পরে রেলিংয়ের ধারে গিয়ে কুকুরটিকে দেখতে পান তিনি। বছর কুড়ির ওই ছাত্রের দাবি, ‘‘কার্নিশ থেকে নীচে নামতে গেলেই পড়ে মরে যেত ও। কী ভাবে উদ্ধার করা যায়, ভেবে পাচ্ছিলাম না। বাড়ির লোকজনকে বলতেই দমকলে খবর দেওয়া হয়।’’

দমকল কর্মী জয়ন্ত সাহা, উদয় আচার্যদের দাবি, খাঁচা তৈরি করে দে বাড়ির ছাদ থেকে কুকুরটির সামনে ফেলা হয়। কিন্তু তাতেও উঠে আসছিল না সেটি। সম্ভবত, ভয় পেয়ে গিয়েছিল। শেষমেশ খাবার দিয়ে, ডেকে ওই কার্নিশের সমান্তরাল আর একটা কার্নিশ দিয়ে ওই বাড়ির একটি ভেন্টিলেটরের কাছাকাছি আনা হয় কুকুরটিকে। গৃহকর্তা গ্রিল খুলে দিলে সেখান দিয়েই বাড়ির ভেতরে লাফ দেয় সেটি। রূপসান্নিধ্যের বাবা, ব্যবসায়ী পিনাকীচরণ দে বলেন, ‘‘কুকুরটিকে প্রায়ই দোকানের আশপাশে দেখি। বুঝিয়ে, বিস্কুট দিয়ে তবে নামানো গেল।’’ তবে দমকলের কাছে বড় ও পোক্ত জাল থাকলে আর একটু সহজে কুকুরটিকে নামানো যেত বলেও তাঁর দাবি।