কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় বাপেরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। না আনায় শুরু হয় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই মেয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বাবা। সেই ঘটনায় মৃত যুবতীর স্বামী-সহ শ্বশুরবাড়ির পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ১১ মার্চ ভাতারের রামচন্দ্রপুরে শ্বশুরবাড়িতেই গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন  বৈশাখি মল্লিক (২৩)। পরে পাড়ার লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে গুসকরা ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল আনা হলে সোমবার ভোরে মারা যান তিনি। মৃতার বাবা শ্যামপদ ঘোষের দাবি, ‘‘আমি গরিব মানুষ। নাতনি হওয়ার পরে লাখ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। সেই কারণেই মেয়েটাকে ওরা অত্যাচার করত। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মেয়েটা নিজেই সব শেষ করে চলে গেল।” তিনিই এ দিন ভাতার থানায় জামাই সুবীর মল্লিক, শ্বশুর সুকুমার মল্লিক, শাশুড়ি কল্পনা মল্লিক, ভাসুর প্রবীর মল্লিক ও জা অপর্ণা মল্লিকের নামে অভিযোগ করেন। পুলিশ তাঁধের বাড়ি থেকেই গ্রেফতার করেছে।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলকোটের গোতিষ্ঠা এলাকার বৈশাখির সঙ্গে বছর চারেক আগে বিয়ে হয় সুবীরের। শ্যামপদবাবুর দাবি, বিয়ের সময় দাবিমতো পণ দেওয়া হয়েছিল। দেড় বছর আগে নাতনির জন্মের পর থেকেই শুরু হয় অশান্তি। মৃতার মামা সাধন ঘোষের দাবি, ‘‘বাপেরবাড়ি থেকে টাকা দিতে পারেনি বলে বৈশাখির উপর মানসিক, শারীরিক নির্যাতন করত ওরা। ঠিকঠাক খেতেও দেওয়া হত না। অত্যাচার বাড়তে থাকায় সহ্য করতে পারেনি মেয়েটা।’’