বেআইনি খাদান বন্ধের দাবিতে জিটি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাল বিজেপি। মঙ্গলবার দুপুরে পশ্চিম বর্ধমানের কুলটির থানা মোড় লাগোয়া এলাকায় এই অবরোধের জেরে যানজট তৈরি হয়। মিনিট কুড়ি অবরোধের পরে, পুলিশের হস্তক্ষেপে তা উঠলেও বিজেপি নেতা-কর্মীরা কুলটি থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। বিজেপির দাবি, আলডিহির খাদানের সঙ্গে জড়িত কয়লা কারবারিদের ধরতে হবে। পুলিশের আশ্বাস, এ ব্যাপারে পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।

সম্প্রতি কুলটির আলডিহির অবৈধ খাদানে কয়লা কাটতে গিয়ে আটকে পড়েন তিন যুবক। চার দিন পরে তাঁদের দেহ মেলে। এলাকায় অবৈধ খাদানগুলি ভরাটের দাবি তোলেন বাসিন্দারা। সোমবার ইসিএলের তরফে বেশ কিছু খাদান ভরাটও করা হয়েছে। বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, শাসকদলের একাংশের মদতে এক দল কয়লা মাফিয়া ওই অবৈধ কয়লা খাদানগুলি চালায়।

এ দিন দুপুর ১২টা নাগাদ আচমকা বিজেপির নেতা-কর্মীরা মাঝরাস্তায় বসে অবরোধ শুরু করায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। জিটি রোডের দু’প্রান্তে যানজট তৈরি হয়। আটকে পড়ে পড়ুয়াদের গাড়িও। বরাকরে স্কুলে যাওয়ার পথে আটকে পড়া এক শিক্ষিকা বলেন, ‘‘এ ভাবে যখন-তখন রাস্তা অবরোধ করলে আমাদের দুর্গতির শেষ থাকে না।’’ মোটরবাইকে স্ত্রীকে নিয়ে বরাকরে এক্স-রে করাতে যাচ্ছিলেন ধনঞ্জয় চট্টরাজ। যানজটে আটকে পড়ে তাঁর ক্ষোভ, ‘‘রোগীদেরও ছাড় দেওয়া হচ্ছে না!’’

পুলিশ অবরোধ তোলার অনুরোধ করলেও গোড়ায় তা মানতে চাননি বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিশ কার্যত জোর করেই রাস্তা ফাঁকা করে দেয়। এর পরে বিজেপির কর্মীরা পতাকা হাতে কুলটি থানায় গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রায় আধ ঘণ্টা বিক্ষোভের পরে, দলের কয়েকজন প্রতিনিধি থানার আধিকারিকের কাছে স্মারকলিপি দেন। কর্মসূচির নেতৃত্বে থাকা বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক সুব্রত মিশ্রের অভিযোগ, ‘‘শাসক দলের একাংশের মদতে আলডিহির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অবৈধ খাদানের ব্যবসা চালাচ্ছে কিছু মাফিয়া। আমরা ওই মাফিয়াদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছি।’’ পুলিশের তরফে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কুলটির তৃণমূল বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা বক্তব্য, ‘‘আমরাই গোড়া থেকে অবৈধ খাদানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি। বিজেপি এখন ঘোলা জলে মাছ ধরতে নেমেছে। পায়ের তলায় মাটি নেই, তাই ওরা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে।’’