বৃষ্টির মধ্যে ইতস্তত ঘুরে বেড়াচ্ছেন বৃদ্ধা, বুধবার সকাল ১১টা নাগাদ টহল দেওয়ার সময়ে নজরে পড়েছিল পুলিশকর্মীদের। কুলটি ও সালানপুরের মাঝামাঝি কালীতলা মোড় এলাকায় তা দেখতে পেয়ে গাড়ি থামিয়ে বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন চৌরঙ্গি ফাঁড়ির পুলিশকর্মীরা। সদুত্তর না মেলায় বৃদ্ধাকে তাঁরা থানায় নিয়ে আসেন। সেখানে       পুলিশ অফিসারেরা তাঁর সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পারেন, কয়েকদিন অভুক্ত রয়েছেন তিনি। বৃদ্ধার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বাড়ির ঠিকানা জোগাড় করে পরিজনদের ডেকে পাঠিয়ে তাঁদের হাতে তুলে দিল পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বছর পঁচাশির ওই বৃদ্ধার নাম ঝর্না পাল। বাড়ি হুগলির বৈঁচিতে। তাঁর বড় ছেলে শৈলেন পাল এ দিন চৌরঙ্গি ফাঁড়িতে এসে জানান, বেশ কয়েক বছর আগে বাবার মৃত্যুর পরে মা কিছুটা মানসিক ভারসাম্য হারান। তাঁকে গত রবিবার গলসিতে বোনের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। কয়েকদিন পরে তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এ দিন দুপুরে পাণ্ডুয়া থানা থেকে তাঁকে ফোন করে জানানো হয়, মা কুলটির চৌরঙ্গি ফাঁড়িতে রয়েছেন। বোনের বাড়ি থেকে কবে কী ভাবে মা বেরিয়ে পড়লেন, তা তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেন শৈলেনবাবু।

চৌরঙ্গি ফাঁড়ির পুলিশ অফিসার অনন্ত রায় জানান, বৃদ্ধাকে ফাঁড়িতে আনার পরে খানিক ধাতস্থ হয়ে তিনি জানান, সোমবার বিকেলে মেয়ের বাড়ি থেকে বেরিয়ে বৈঁচিতে নিজের বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেন ধরতে স্টেশনে যান। একটি ট্রেনেও চাপেন। কিন্তু কোন স্টেশনে এসে নেমেছেন, তা মনে নেই বলে জানান। 

পুলিশের অনুমান, বৃদ্ধা ভুল করে উল্টো দিকের ট্রেনে উঠে পড়েছিলেন। মায়ের খোঁজ পেয়ে পুলিশকে কৃতজ্ঞতা জানান শৈলেনবাবু। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশের জন্যই মাকে ফিরে পেলাম। তবে বোন কেন আমাদের কিছু জানায়নি তা খোঁজ নেব।’’