পরপর দু’টি দুর্ঘটনা। তাতে জখম হলেন তিন জন মোটরবাইক আরোহী। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দু’টি দুর্ঘটনাই ঘটেছে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কে। এর জেরে পথ নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার হরিপুর থেকে রানিগঞ্জে আসছিল একটি ম্যাটাডর। উল্টো দিক থেকে একটি মোটরবাইকে শেখ ডালিম ও শেখ মোসারফ নামে দু’জন আসছিলেন। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ, জামুড়িয়ার কুনস্তরিয়া মোড়ে ম্যাটাডর-মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন বাইক-চালক ডালিম ও মোসারফ। এলাকাবাসী তাঁদের উদ্ধার করে রানিগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়। ম্যাটাডরের চালককে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে জামুড়িয়ার কুনস্তরিয়া মোড়ে প্রায় আধ ঘণ্টা পথ অবরোধ করেন এলাকাবাসীর একাংশ। তাঁরা ওই এলাকায় ট্র্যাফিক-ব্যবস্থা আরও জোরদার করার আর্জি জানান।

এলাকাবাসী জানান, এই মোড়ের আশপাশে রয়েছে ইসিএলের কুনস্তরিয়া এরিয়া, নর্থ সিহারসোল খোলামুখ খনি, কুনস্তরিয়া ও বাঁশরা কোলিয়ারি। এই মোড় দিয়েই রানিগঞ্জের বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়ারা যাতায়াত করে। উত্তরবঙ্গে ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে চলাচল করা বিভিন্ন বাস ধরতেও এই মোড়েই আসেন এলাকাবাসী।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, এমন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে যানবাহন চলাচল করলেও নেই ট্র্যাফিক পুলিশ। এলাকাবাসীর দাবি, এই মোড়ে ট্র্যাফিক ব্যারিকেড ও হাম্প বসাতে হবে। লাগোয়া তপসি এলাকার বাসিন্দা মনজয় চট্টোপাধ্যায়, কুনস্তরিয়ার শিশির মণ্ডলেরা জানান, এই মোড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। মাস ছয়েক আগেই জামুড়িয়ার বেনালির বাসিন্দা সমরেশ মুখোপাধ্যায়ের এখানে দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। তার পরেও অন্তত ১৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এই এলাকায়, দাবি এলাকাবাসীর একাংশের।

এ দিনের অবরোধের জেরে প্রায় শ’দুয়েক গাড়ি আটকে যায়। এলাকাবাসী জানান, পথ-নিরাপত্তায় পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে।

পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ ওই রাস্তাতেই রানিগঞ্জের তারবাংলা মোড়ের কাছেও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, মোটরবাইকে চড়ে রানিগঞ্জের স্কুলপাড়ার সন্তু চক্রবর্তী পঞ্জাবি মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময়ে একটি গাড়ি তাঁকে ধাক্কা মারে। পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ওই যুবককে উদ্ধার করে রাজবাঁধের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করায়। এসিপি (ট্র্যাফিক) রশিদ আনোয়ার বলেন, ‘‘বাসিন্দাদের দাবিগুলি খতিয়ে
দেখা হবে।’’