সমীক্ষার ফল নিয়ে সংশয়ে সব পক্ষই
ভি শিবদাসনের প্রতিক্রিয়া, ‘‘রাজ্যে সমীক্ষার ফল মিলবে না বলেই আমার বিশ্বাস। যেমন মেলেনি ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে।’’
vote

প্রতীকী চিত্র।

মাঝে আর দু’টো দিন। তার পরেই ঘোষণা হয়ে যাবে ফলাফল। সেই অপেক্ষার মাঝেই রবিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ হয়ে গিয়েছে বুথ-ফেরত সমীক্ষার ফল। ২৩ মে ভোটের ফল বেরনোর আগে সেই সমীক্ষার ফল নিয়েই সরগরম পশ্চিম বর্ধমানের  নানা প্রান্ত।

এবিপি নিউজ-এসি নিয়েলসনের বুথ-ফেরত সমীক্ষা অনুযায়ী, এ বার এ রাজ্যে বিজেপির আসন বৃদ্ধির সম্ভাবনা যথেষ্ট। কিন্তু তার মধ্যেও ওই সমীক্ষা অনুযায়ী, আসানসোল কেন্দ্রটি হাতছাড়া হতে পারে বিজেপির। এখানে তৃণমূলকে সম্ভাব্য জয়ী হিসেবে জানিয়েছে সমীক্ষা। এ ছাড়া জেলার একাংশ যে লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত, সেই বর্ধমান-দুর্গাপুরেও তৃণমূল জয়ী হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এই ধরনের সমীক্ষার ফল বহু সময়েই বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। তবু রবিবার সন্ধ্যায় এই সমীক্ষা জানার পরে জেলার তৃণমূল নেতারা নিজেদের এলাকা নিয়ে স্বস্তি পেলেও রাজ্যের সামগ্রিক ফল মিলবে না বলে দাবি করেছেন। উল্টো দিকে, বিজেপির দাবি, আসানসোল ও বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রে সমীক্ষার ফল ভুল প্রমাণ করে জিতবেন তাদের প্রার্থীরাই। সিপিএম নেতারা আবার এই সমীক্ষাকে আমল দিতেই নারাজ।

রবিবার সন্ধ্যা ৬টার আগেই আসানসোলে তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে ভিড় জমিয়েছিলেন দলের কর্মীরা। সমীক্ষা দেখার পরে দলের জেলা সভাপতি ভি শিবদাসনের প্রতিক্রিয়া, ‘‘রাজ্যে সমীক্ষার ফল মিলবে না বলেই আমার বিশ্বাস। যেমন মেলেনি ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে।’’ তবে আসানসোল নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমরা জানি, এ বার এই কেন্দ্রে বিজেপিকে কড়া লড়াইয়ে ফেলেছি।’’ সমীক্ষায় আসানসোলে তাঁদের এগিয়ে থাকা প্রসঙ্গে  তৃণমূলের আর এক নেতা তথা আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির বক্তব্য, ‘‘সবই সম্ভব হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। আমরা শুধুমাত্র তাঁর নির্দেশ পালন করেছি।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

দুর্গাপুরে তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়ের দাবি, তাঁরা সমীক্ষার ফলাফল নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছেন না। তাঁর অভিযোগ, ‘‘মোদীকে ফের প্রধানমন্ত্রী দেখানোর জন্য পরিকল্পনা করে রাজ্যে এমন ফল দেখানো হয়েছে। মানুষ এই ফলাফল বিশ্বাস করছেন না। এ সব নিয়ে ভাবার সময় নেই। আমাদের কর্মীরা এখন গণনার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।’’

বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস রায়ের আবার দাবি, সমীক্ষায় যা বলা হয়েছে, তার চেয়েও ভাল ফল এ বার এ রাজ্যে করবে তাঁদের দল। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা তো গোড়া থেকেই বলছি, ২৩টি আসনে জিতব। আসানসোলের ক্ষেত্রে সমীক্ষার ফল মিলবে না। এখানেও আমরা জিতব।’’ আসানসোলের বিজেপি প্রার্থী তথা বিদায়ী সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ও রবিবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন, আসানসোলে তিনি হারছেন বলে সমীক্ষায় যা দেখানো হয়েছে, তা ঠিক নয়। বাবুল সোমবার বিকেল পর্যন্ত আসানসোলে না থাকলেও তাঁর আবাসনে দলীয় কার্যালয় খোলাই ছিল। ছিলেন দলের নেতা-কর্মীরাও। বাবুলের জয়ের বিষয়ে তাঁরাও আত্মবিশ্বাসী।

দুর্গাপুরের বিজেপি নেতা অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, ‘‘ভোটের আগে থেকেই আমরা বলছি, বিজেপিই একমাত্র মানুষের জন্য কাজ করে চলেছে। বুথ-ফেরত সমীক্ষায় রাজ্যে যে ফলাফল দেখা যাচ্ছে, তাতে তা বোঝা যাচ্ছে। ২৩ মে আরও ভাল ভাবে প্রমাণ হয়ে যাবে।’’

বুথ-ফেরত সমীক্ষা নিয়ে বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়নি সিপিএমের কার্য়ালয়গুলিতে। দলের আপকার গার্ডেন কার্যালয়ে অন্য দিনের মতোই দলের নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন নেতা-কর্মীরা। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য বংশগোপাল চৌধুরীর বক্তব্য, ‘‘এ নিয়ে বলার মতো কিছু নেই। মাঝে তো আর দু’টো দিন। তার পরেই সব জলের মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’ দলের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায়সরকার দাবি করেন, ‘‘ঠিক পদ্ধতি মেনে সমীক্ষা হলে তা ভরসা করা যায়। কিন্তু আগে থেকে উদ্দেশ্য ঠিক করে সমীক্ষা করলে তা কখনও গ্রাহ্য হতে পারে না।’’