শ্রমিকের ঘরে খাওয়া, প্রশ্নে ‘র‌্যালি’
Election

দলীয় কর্মীর বাড়িতে দুপুরের খাওয়াদাওয়ায় ব্যস্ত আভাস রায়চৌধুরী। (ডানদিকে) দুর্গাপুরে মমতাজ সংঘমিতা।

এক পক্ষ জোর দিলেন শ্রমিক মন পাওয়ার। অন্য পক্ষ ভরসা রাখলেন রোড-শোয়ে। শনিবার দুর্গাপুরে এ ভাবেই জমজমাট প্রচার সারল সিপিএম, তৃণমূল।

সকালে দুর্গাপুরের বিধাননগর রামমন্দির থেকে হাডকো, বিধাননগর হাউসিং, ফুলঝোড়, হরিবাজার, পারদৈ প্রভৃতি এলাকায় প্রচার করেছেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের সিপিএম প্রার্থী আভাস রায়চৌধুরী। পরে তিনি  লেনিন সরণির একটি বেসরকারি ইস্পাত অনুসারী কারখানার সামনে গিয়ে কথা বলেন শ্রমিকদের সঙ্গে। গিয়েছিলেন বন্ধ জেসপ কারখানা লাগোয়া বস্তি ও বিওজিএল প্ল্যান্ট সাইড বস্তিতেও। এর পরে ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কলাবাগান বস্তিতে বেসরকারি ইস্পাত অনুসারী কারখানার ঠিকাশ্রমিক, দলীয় কর্মী ষষ্ঠী বাউড়ির বাড়িতে খাওয়াদাওয়া সারেন আভাসবাবু।

শ্রমিকের বাড়িতে খাওয়াদাওয়াকে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘মানুষ পাশে নেই বলেই প্রাসঙ্গিক থাকতে এ সব লোক দেখানো কাজ করতে হচ্ছে আভাসবাবুদের।’’ যদিও আভাসবাবুর প্রতিক্রিয়া, ‘‘অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ, শ্রমিকের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের। এতে নতুনত্ব কিছু নেই।’’

ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতাজ সংঘমিতা প্রচার করেছেন কমলপুর, রঘুনাথপুর, পারুলিয়া প্রভৃতি এলাকায়। হুড খোলা গাড়িতে চলে প্রচার। পরে ডিএসপি টাউনশিপের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোড-শো হয়। তবে ১০ নম্বর ওয়ার্ডে প্রার্থীর প্রচারে নিয়ম না মানার অভিযোগ করেছে সিপিএম। সিপিএম নেতৃত্বের অভিযোগ, ওই র‌্যালিতে বিনা হেলমেটে মোটরবাইক চালান কাউন্সিলর রাজীব ঘোষ-সহ তৃণমূল নেতা, কর্মীরা। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায় সরকারের বক্তব্য, ‘‘বাইক র‌্যালি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট আচরণ বিধি রয়েছে। তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া, তৃণমূলের কাউন্সিলর হেলমেট না পরে আইন ভেঙেছেন।’’ যদিও তৃণমূল নেতা উত্তমবাবুর দাবি, ‘‘কোনও বাইক র‌্যালি হয়নি। ঝাঁঝড়া থেকে খনিকর্মীরা কাজ শেষে মোটরবাইক নিয়ে ফিরছিলেন। তাঁরা আমাদের প্রার্থীর রোড-শোয়ের সঙ্গে মিশে গিয়েছিলেন। কাছেই কাউন্সিলরের বাড়ি। তাই হয়তো তিনি হেলমেট নিতে ভুলে গিয়েছিলেন।’’

বিধাননগর, আড়রা মোড়, কুলডিহা, মলানদিঘি প্রভৃতি এলাকায় প্রচার করেছেন এসইউসি প্রার্থী সুচেতা কুণ্ডু। মলানদিঘি বাসস্ট্যান্ডে সভাও করেন তিনি। এর পরে রাত পর্যন্ত দোমড়া, ত্রিলোকচন্দ্রপুর হয়ে দার্জিলিং মোড় পর্যন্ত প্রচার সারেন তিনি।