তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগামিকাল, বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে সভা করবেন। তা উপলক্ষে মঙ্গলবার থেকেই প্রশাসনের প্রস্তুতি তুঙ্গে।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই দিন এইচএফসিএল কলোনি লাগোয়া এফসিআই কমিউনিটি সেন্টার মাঠে মমতার সভা করার কথা। এ দিন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বাঁশ ও শালের খুঁটি দিয়ে ব্যারিকেড তৈরির কাজ চলছে। ভাঙাচোরা রাস্তায় পড়ছে পিচের প্রলেপ। মাঠের এক দিকে তৈরি হয়েছে অস্থায়ী হেলিপ্যাড। ওই দিন বিকেল ৩টে নাগাদ সেখানেই নামার কথা মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারের। নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা মাঠ পরিদর্শন করেন এ দিন। পরীক্ষামূলক ভাবে মাঠে নামে হেলিকপ্টার।

২০১৬-র বিধানসভা ভোটে দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম, দুই কেন্দ্রেই হারে তৃণমূল। পরে যদিও দুর্গাপুর পশ্চিম কেন্দ্রের খাতায় কলমে কংগ্রেস বিধায়ক তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান। কিন্তু এ বারের লোকসভা ভোটে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্রের এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট ফিরে পাওয়াটা চ্যালেঞ্জের, দলের অন্দরে জানাচ্ছেন তৃণমূল নেতা, কর্মীদের একাংশ। তবে তাঁদের মতে, দলনেত্রীর সভার কারণে সেই চ্যালেঞ্জে জিতবেন তাঁরাই।

যদিও প্রচার-পর্বে পিছিয়ে নেই সিপিএম-ও। সিপিএম সূত্রে খবর, আজ, বুধবার সন্ধ্যায় সিটি সেন্টারে দলের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি এবং শুক্রবার ফুলঝোড়ে মহম্মদ সেলিম সভা করবেন।

সিপিএম-সহ অন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এ বারের ভোটে দুর্গাপুর পুরভোটে শাসক দলের ‘সন্ত্রাস’ করে জেতার অভিযোগটি ফের সামনে আনছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য পঙ্কজ রায় সরকার বলেন, ‘‘পুরসভা নির্বাচনে যে ভাবে ভোট লুট হয়েছে ফের তা হলে দুর্গাপুরের মানুষ প্রতিরোধ গড়বেন।’’ তবে তৃণমূলের জেলা কার্যকরী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘সিপিএমের অভিযোগ ভিত্তিহীন। মানুষ বিরোধীদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবে না।’’