পারিবারিক অশান্তির নালিশও সি-ভিজিলে
মূলত নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ শুনতে চালু করা এই অ্যাপে এমন নানা অভিযোগ ও ছবি পেয়ে অবাক পূর্ব বর্ধমানের নির্বাচনী দফতরের কর্মী-আধিকারিকেরা।
CVIGIL

ছেলেমেয়েরা মারধর করে বাড়িছাড়া করেছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগের চিঠি পাঠিয়েছেন বৃদ্ধা। সেই সঙ্গে নালিশ ঠুকে দিয়েছেন কমিশনের ‘সি-ভিজিল’ অ্যাপেও। দুষ্কৃতীদের হামলায় শিশু-সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে, অভিযোগ এসেছে অ্যাপে। শুধু এমন অভিযোগ নয়, আসছে নিজস্বী-সহ নানা ছবিও।

মূলত নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ শুনতে চালু করা এই অ্যাপে এমন নানা অভিযোগ ও ছবি পেয়ে অবাক পূর্ব বর্ধমানের নির্বাচনী দফতরের কর্মী-আধিকারিকেরা। তাঁদের প্রশ্ন, এই সব অভিযোগের ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন কী করতে পারে? এ তো নিতান্তই প্রশাসনিক ব্যাপার। কিন্তু কালনার নান্দাই এলাকার বৃদ্ধা বা নাদনঘাটের বাঘাডাঙার ওই দম্পতির যুক্তি, ভোটের আগে এখন বাড়িতে থাকতে না পারলে বুথে যাবেন কী ভাবে? তা নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশনেরই দায়িত্ব। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মহকুমা প্রশাসনকে বিষয়গুলি দেখতে বলা হয়েছে।

নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগের প্রমাণ হিসাবে ছবি বা ভিডিয়ো পাঠানো যায় ওই অ্যাপে। জেলা নির্বাচন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার পর্যন্ত ১০৩টি অভিযোগ এসেছে সেখানে। তার মধ্যে পঞ্চাশটির সঙ্গেই ভোটের কোনও সম্পর্ক নেই। কমিশনের এক কর্তা বলেন, “পারিবারিক বিবাদের অভিযোগ এসেছে। থানার বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। এ ছাড়াও অনেকে নিজস্বী পাঠিয়েছেন। কেউ-কেউ তো হাতের ছবি, বিছানার চাদরের ছবিও পাঠাচ্ছেন!’’ কমিশনের কর্তাদের মতে, ভোট-পর্বে অনেকে মনে করেন, কমিশনকে জানালেই সব কিছুর সমাধান সম্ভব। সে জন্য পারিবারিক গোলমাল নিয়েও অভিযোগ জানাচ্ছেন। তবে কমিশনের তরফে ভোটের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকা বিষয়গুলি বাতিল করে প্রকৃত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কমিশন সূত্রে জানা যায়, গোড়ার দিকে অ্যাপে সারবত্তাহীন ছবি-ভিডিয়ো বেশি আসছিল। এখন তা অনেকটা কমেছে।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

সি-ভিজিল অ্যাপ ছাড়াও টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে সরাসরি নির্বাচনী বিধি ভাঙার অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। জেলা নির্বাচনী দফতর সূত্রে জানা যায়, সেখানেও পারিবারিক বিবাদ থেকে ভোটার তালিকায় নাম তোলার আর্জি নিয়ে ফোন এসেছে। ভোটার কার্ডে নাম-ঠিকানা সংশোধনের আবেদনও আসছে। এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এখন দেওয়াল লিখন নিয়ে বেশি ফোন আসছে।’’