বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় দুর্গাপুরের কমলপুরে শনিবার রাতে এক যুবকের উপরে হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মাথায় চোট নিয়ে তিনি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি। দুর্গাপুরে বিজেপির চিন্তন শিবির চলাকালীন এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতারা। অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূলের দাবি, তাদের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছেন বিজেপি কর্মীরাই। রবিবার সকালে দলের তরফে প্রতিবাদ মিছিলও করা হয়।

স্থানীয় সূত্রের খবর, নানা কারণে শনিবার সন্ধ্যা থেকে তৃণমূল ও বিজেপি, দু’পক্ষের লোকজনের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছিল। তৃণমূল নেতা নিখিল নায়েকের ভাইপো নীতিশ নায়েক বলেন, ‘‘আগে তৃণমূল করতাম। কিন্তু দলীয় নেতৃত্বের কাজকর্মে ক্ষুব্ধ হয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছি।’’ তিনি অভিযোগ করেন, সে জন্য শনিবার তিনি-সহ ৪-৫ জনের উপরে চড়াও হন স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা। মারধর করা হয় তাঁদের

দলের কেন্দ্র ও রাজ্য নেতাদের ঘটনার কথা জানাতে রক্তাক্ত মাথায় গামছা বেঁধে সিটি সেন্টারে যে হোটেলে বিজেপির চিন্তন শিবির চলছে, সেখানে পৌঁছে যান    নীতিশ। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা দলীয় কর্মী-সমর্থক ও স্থানীয় নেতারা তাঁকে দেখে চমকে যান। স্থানীয় এক নেতা ভিতরে গিয়ে ঘটনার কথা জানালে বেরিয়ে আসেন দলের নেতা সায়ন্তন বসু। তিনি নীতিশের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। আরও এক বিজেপি কর্মী জখম    হয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি বলে জানা গিয়েছে।

নীতিশ অভিযোগ করেন, ‘‘কমলপুরে আমার একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। তৃণমূল ছেড়ে দেওয়ায় বদলা নিতে দলের নেতারা হামলা চালিয়েছে।’’ বিজেপির জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুইয়ের অভিযোগ, ‘‘প্রায় প্রতিদিনই আমাদের কর্মীদের উপরে হামলা করছে তৃণমূল। কিন্তু পুলিশ কিছু করছে না।’’ বিজেপির আরও অভিযোগ, রবিবার গাঁধী মোড় ময়দানে দলের সভায় আসার পথে কমলপুরের কাছে কর্মীদের উপরে হামলা হয়। গাড়ি, বাস ভাঙচুর করা হয়। আহত হন চার জন।

তৃণমূল অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের পাল্টা দাবি, শনিবার রাতে বিজেপি তাদেরই কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে। ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর শিপ্রা সরকারের অভিযোগ, ‘‘কমলপুরে বিজেপি কর্মীরা মত্ত অবস্থায় গালিগালাজ করছিল। সেই সময়ে আমাদের দলের কয়েকজন প্রতিবাদ করে। তখন ওরা আমাদের কর্মীদের উপরে হামলা চালায়।’’ বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে রবিবার সকালে দলের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা। প্রতিবাদ মিছিলও করেন তাঁরা। দুর্গাপুরের তৃণমূল নেতা উত্তম মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘বিজেপির কর্মীরা প্রকাশ্যে নিজেদের মধ্যে গোলমাল করছেন। কমলপুরেও হয়তো তেমন কিছু ঘটেছে। আমাদের কেউ জড়িত নন।’’ পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় টহল চলছে।