শহরে ঢোকার মুখেই রাস্তার ধারে পড়ে থাকা কালো ব্যাগটি দেখতে পেয়েছিলেন যুব তৃণমূল নেতা সম্রাট তপাদার। খুলে দেখেন, দুটি দু’হাজার টাকার বান্ডিল রয়েছে তাতে। রয়েছে পাসপোর্ট-সহ বেশ কিছু জরুরি নথি। বুঝেছিলেন, কেউ নিশ্চয় ব্যাগ হারিয়ে বিপদে পড়েছেন। সঙ্গে সঙ্গেই বর্ধমান থানায় পৌঁছে যান তিনি। ঘণ্টা দুয়েক অপেক্ষা করে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের বাসিন্দা প্রদ্যুৎ গুপ্তের হাতে তুলে দেন ব্যাগটি। 

পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার বেলা দু’টো নাগাদ প্রদ্যুৎবাবু বর্ধমান থানায় অভিযোগ করেছিলেন, কলকাতা থেকে দুর্গাপুরে যাওয়ার পথে বর্ধমানের উল্লাস মোড়ের কাছে নেমেছিলেন তিনি। তখনই টাকার ব্যাগটি হারিয়ে ফেলেন। গলসির কাছে এসে তাঁর খেয়াল হয় সে কথা। কিন্তু ফিরে গিয়ে ব্যাগ পাননি। এর ঘন্টাখানেক পরেই পুলিশের কাছে খবর আসে, ব্যারাকপুরের নাপিতপাড়ার বাসিন্দা, সু্প্রিম কোর্টের আইনজীবী তথা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক সম্রাটবাবু ওই ব্যাগটি কুড়িয়ে পেয়েছেন। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে প্রদ্যুৎবাবুকে ফোন করে বর্ধমান থানায় আসতে বলে।

চার ঘন্টার মধ্যে হারানো টাকা ফেরত পাওয়ার কথা বিশ্বাস করতে পারছেন না ব্যবসায়ী প্রদ্যুৎবাবু। তিনি জানান, স্ত্রীর দুটি কিডনিই খারাপ। দশ বছর ধরে ডায়ালিসিস চলছে। তাঁর চিকিৎসার জন্যই কলকাতার মহাজনের কাছে দেড় লক্ষ টাকা ধার করে বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। বর্ধমান শহরে ঢোকার আগে এক বার নামেন। বাঁ বগলে ব্যাগটি ছিল। তখনই একটা ফোন আসায় তা ধরতে গিয়ে ব্যাগ পড়ে যায়। পরে তা খেয়াল হয় তাঁর। তিনি বলেন, ‘‘ধরেই নিয়েছিলাম ব্যাগ আর পাব না।’’

আর সম্রাটবাবু বলেন, ‘‘ব্যাগটি কুড়িয়ে পাওয়ার পরে সর্বমঙ্গলাবাড়িতে পুজো দিয়েছি। তারপর থানায় গিয়ে অপেক্ষা করি। প্রদ্যুৎবাবু আসার পরে ব্যাগটি তাঁর হাতে তুলে দিয়েছি। এটাই কর্তব্য। ওই টাকায় তাঁর স্ত্রী চিকিৎসা হবে, এর চেয়ে আর কী আনন্দের হতে পারে’’। প্রদ্যুৎবাবুর স্ত্রী কাকলিদেবী ফোনে বলেন, ‘‘উনি যা উপকার করলেন, আমাদের কাছে আজীবন সম্রাটই হয়ে থাকবেন।’’