প্রায় কুড়ি ঘণ্টা বিদ্যুতের টাওয়ারে বসে রইলেন যুবক। দমকলকর্মীকে দেখেই তিনি ঝুলে পড়লেন টাওয়ারের রড ধরে। শেষমেশ টাল সামলাতে না পেরে ওই যুবক সটান পড়লেন নীচে পাতা ত্রিপলের উপরে। রবিবার দুপুরে অণ্ডালের বাবুইশোল গ্রামের ঘটনা।

পুলিশ জানায়, শনিবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ ওই যুবক গ্রামে ঘোরাঘুরি করছিলেন। তাঁকে আগে কখনও এলাকায় দেখা যায়নি বলেই দাবি বাসিন্দাদের। তাঁরা জানান, ওই যুবকের কাছ থেকে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি তাঁর নাম মনু সিংহ জানান। সেই সঙ্গে বলেন, ‘অসম থেকে এক ঠিকাদারের সঙ্গে গুয়াহাটি-চেন্নাই এক্সপ্রেসে চড়ে চেন্নাইয়ে যাচ্ছিলাম। মাঝ পথে ঠিকাদার টাকাপয়সা সব কেড়ে নেওয়ায় শনিবার অণ্ডাল স্টেশনে নেমে পড়ি।’

গ্রামের বাসিন্দা কুন্তল চক্রবর্তী, পার্থ খান, গৌতম বাউরিরা জানান, যুবকের কথা শুনে গ্রামের কয়েক জন ছ’শো টাকা চাঁদা তুলে বাড়ি ফেরানোর বন্দোবস্ত করেন। কিন্তু খানিক বাদে বিকেল সাড়ে ৫টার সময়ে এলাকাবাসী লক্ষ করেন, বাড়ি না ফিরে প্রায় ৪০ ফুট উঁচু বিদ্যুতের একটি টাওয়ারে চড়ে বসেছেন মনু। খবর পেয়ে এলাকায় আসেন অণ্ডাল থানার পুলিশ, দমকল বাহিনী, সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা। পুলিশ জানায়, অন্ধকারে ওই যুবককের উদ্ধার করতে অসুবিধা তৈরি হওয়ায় পরের দিন ভোর থেকে ফের মনুকে নামানোর চেষ্টা করা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাতে পুলিশকর্মীরা পাহারায় বসেন।

রবিবার দুপুর ১টায় গ্রামের এক যুবক প্রথমে টাওয়ারে চড়ে মনুকে জল খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তা দেখেই মনু চিৎকার করে বলেন, ‘‘জল খাওয়ানোর চেষ্টা করলে সকলকে নিয়েই ঝাঁপ দেব।’’ এর পরেই পুলিশ ও গ্রামবাসী টাওয়ারের নীচে দু’টি বড় আকারের ত্রিপল টাঙান।

সব বন্দোবস্ত হওয়ার পরে দমকল ও সিভিল ডিফেন্সের দু’জন কর্মী টাওয়ারে ওঠেন। এক দমকলকর্মী ওই যুবকের কোমরে দড়ি বাঁধার চেষ্টা করেন। সেই সময়ে ওই কর্মীকে সজোরে ধাক্কা মেরে টাওয়ারের রড ধরে ঝোলার চেষ্টা করেন ওই যুবক। আর তখনই তিনি ত্রিপলের উপরে প়়ড়েন।

আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (পূর্ব) অভিষেক মোদী বলেন, “উঁচু থেকে বেকায়দায় নীচে পড়ায় ওই যুবক হাতে ও মাথায় চোট পেয়েছেন। তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তিনি সুস্থ হলে তাঁর পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’’