ঘরে-ঘরে পুজো। লক্ষ্মী বন্দনায় মেতে উঠেছেন গৃহস্থেরা। কিছু সর্বজনীন পুজো হলেও মূলত পারিবারিক পুজোই বেশি। পুজোর আগের দিন, মঙ্গলবার তাই বাজার-দোকানে ছিল বেশ ভিড়। প্রতিম থেকে পুজোর উপকরণ, ভোগের সামগ্রী কেনাকাটায় বেরিয়েছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু বাজারে গিয়ে বেশ হাত পুড়ল তাঁদের। আনাজের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ফল, মিষ্টি থেকে প্রতিমা, সবের বাজারই অগ্নিমূল্য।

বর্ধমান শহরের কার্জন গেট থেকে কোর্ট চত্বরের দিকের রাস্তায় নেতাজি মূর্তি পর্যন্ত প্রতিমা বিক্রি হচ্ছে। ৬০ টাকা থেকে শুরু করে ১২০০ টাকা, নানা দামের প্রতিমা রয়েছে। বিক্রেতা কাঞ্চন দাস, কমলাপ্রসাদ ধরেরা জানান, গত বছর প্রতিমার ন্যূনতম মূল্য যেখানে ৩০-৪০ টাকা ছিল, সেখানে এ বার তা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এ বার যে প্রতিমা ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে গত বছর তা ছিল ৭০০-৮০০ টাকা। বিক্রেতা জয়ন্ত হাজরার দাবি, জিএসটি-র প্রভাবের সঙ্গে পেট্রল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি এর কারণ। বাড়তি পরিবহণ খরচ যোগ হয়েছে প্রতিমার দামে।

চড়েছে ফলের বাজারদরও। বর্ধমানের বিসি রোড বাজারে মঙ্গলবার সকালে ক্রেতা শ্রীমন্ত কোনার, গৌতম হাজরা, মামনি চৌধুরী, রুমা দে-রা দাবি করেন, বিভিন্ন ফলের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে গিয়েছে লক্ষ্মীপুজোর বাজারে। বিক্রেতা গোপাল সোনকার, প্রকাশ সোনকারদের অবশ্য দাবি, শশা ছা়ড়া অন্য সব ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শশা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। আপেল ৮০ টাকা, মুসাম্বি লেবু ৬০ টাকা, ন্যাসপাতি ৬০ টাকা দরে বিকোচ্ছে। কালনার চকবাজারে গিয়ে এ দিন দেখা যায়, কমলালেবু ৬০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, ন্যাসপাতি ১০০ টাকা, আপেল ১০০ টাকা, আঙুর ২০০ টাকা, আতা ১৩০ টাকা, রাঙাআলু ৬০ টাকা, তরমুজ ৪০ টাকা, কুল ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আনারস ৪০ টাকা, বাতাবিলেবু ১৫ টাকা, আখের টুকরোর দাম ২০-৩০ টাকা। কলার চাহিদা রয়েছে রীতিমতো। প্রতি ডজন মর্তমান কলা ৫০-৬০ টাকা, কাঁঠালি কলা ৪০-৫০ টাকা ও সিঙ্গাপুরি ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে।

মিষ্টি ব্যবসায়ীরা জানান, ছানা-সহ কাঁচামালের দাম বাড়ায় এ বার পুজোয় মিষ্টির দামও বাড়াতে হয়েছে। বেশি দামে বেচতে হয়েছে মাখা সন্দেশ। রসগোল্লার আকৃতি কিছুটা ছোট হয়েছে। কালনার নিভুজি এলাকার ব্যবসায়ী দেবরাজ বারুই জানান, মাখা সন্দেশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি দরে। তিনি বলেন, ‘‘ছানার দাম বেড়েছে। এক লাফে গ্যাসের দামও বেড়ে গিয়েছে। বাধ্য হয়ে কিছুটা দাম বাড়াতে হয়েছে।’’

তবে গৃহস্থকে খানিক স্বস্তি দিয়েছে আনাজ বাজার। কৃষি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আবহাওয়া ভাল থাকায় এ বার আনাজের ফলন ভাল হয়েছে। ভাল জোগান থাকায় শশা ও পিঁয়াজ ছাড়া বাকি সব আনাজের দাম ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে, জানান বর্ধমান বাজার ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক চন্দ্রবিজয় যাদব।

কালনায় লক্ষ্মীপুজোর বাজার সেরে বা়ড়ি ফেরার পথে চন্দন ভৌমিক বলেন, ‘‘অন্য বছরের তুলনায় বাজার খরচ অনেকটা বেড়েছে। পরিমাণে কিছুটা কম নিয়ে সামাল দিতে হল।’’