ফি দিনের মতোই সন্ধ্যায় পুজো করতে মন্দিরে এলেন পুরোহিত। দেখলেন, উধাও দু’টি বিগ্রহই। কিন্তু চক্ষু চড়কগাছ, ১১টাকা প্রণামী দেখে! পুরোহিত ও অন্য সেবায়েতদের দাবি, ওই প্রণামী ‘ধার্মিক’ চোরেরই। শুক্রবার এমনই অভিযোগ উঠেছে আউশগ্রামের গোপীনাথবাটী গ্রামে।

পুরোহিত বুদ্ধদেব গোস্বামী জানান, বেলতলা বাড়ির মন্দির থেকে প্রায় এক ফুট উচ্চতার পেতলের গোপীনাথ ও রাধিকার দু’টি মূর্তি চুরি গিয়েছে। সেবায়েত প্রদীপ গোস্বামী, তপন গোস্বামীরা জানান, শুক্রবার দুপুরে বিগ্রহের পুজো, ভোগ দেওয়ার পরে পুরোহিত চলে যান। পরে সন্ধ্যায় ফের ভোগারতি দিতে তিনি আসেন। দেখেন, বিগ্রহের সিংহাসন ফাঁকা। তবে মন্দিরে থাকা ঠাকুরের বাসনপত্র বা অন্য সামগ্রীর নড়চড় হয়নি। কিন্তু দেখা যায়, সিংহাসনের সামনে ১০টাকার একটি নোট ও এক টাকার একটি কয়েন ‘প্রণামী’ হিসেবে রাখা। তা দেখেই পুরোহিত ও সেবায়েতদের অনুমান, এ প্রণামী চোরেরই দেওয়া।

এলাকাবাসী জানান, বাসিন্দাদের সুবিধার জন্য মন্দিরে তালা দেওয়া থাকত না। তাঁদের অনুমান, সেই ‘সুযোগই’ কাজে লাগিয়েছে চোর। গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সিদ্ধেশ্বর গোস্বামীর দাবি, ‘‘প্রায় পাঁচ শতাব্দীর পুরনো বিগ্রহ দু’টি। স্থানীয় কর্মকারেরা এর প্রতিষ্ঠাতা। পরে চক্রবর্তীদের হাত ঘুরে বর্তমানে গোস্বামীরা এর সেবায়েত। ঠাকুরের নামানুসারেই গ্রামের নামও গোপীনাথবাটী।’’

রাতে গুসকরা ফাঁড়িতে অভিযোগ করা হয় বলে জানান সেবায়েতেরা এবং আউশগ্রামের তৃণমূল নেতা প্রশান্ত গোস্বামী। জেলা পুলিশের ডিএসপি (ডিএনটি) অরিজিৎ পালচৌধুরী বলেন, ‘‘তদন্ত চলছে।’’ পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এক জনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে।