• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হাসপাতালে রোগীদের ফোঁটা দিলেন নার্সেরা

Kalna Hopspitals
সৌহার্দ্য: কালনা হাসপাতালে। শনিবার। —নিজস্ব চিত্র।

কিডনির অসুখে দু’দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি সমুদ্রগড়ের বছর পঞ্চাশের মন্টু বসাক। নাকে বাঁধা ওষুধের নল। শনিবার দুপুরে তাঁর বিছানার সামনে প্রদীপ, চন্দন, ধান-দুর্বার থালা নিয়ে দাঁড়ালেন হাসপাতালের নার্স। কপালে ফোঁটা দিতেই মন্টুবাবুর দু’চোখে জল। মাথায় স্নেহের হাত রাখলেন নার্স।

জ্বরে শিশুদের ওয়ার্ডে ভর্তি বছর দশেকের মৃণাল সর্দার। প্রতিবার তাকে ভাইফোঁটা দেয় বোন। শনিবার তাই হাসপাতালের বিছানায় মন খারাপ করে শুয়ে ছিল সে। তবে তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। নার্স-দিদি তার কপালে ফোঁটা দিতেই মুখে এক গাল হাসি মৃণালের।

এ দিন হাসপাতালে ভর্তি কিশোর থেকে বৃদ্ধ, সকলকেই ভাইফোঁটা দিলেন মহকুমা হাসপাতালের এক দল নার্স। সেই উপলক্ষে সমস্ত রোগীদের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভাল খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, যাঁরা ভর্তি থাকেন এই দিনটিতে তাঁরা ভাইফোঁটা থেকে বঞ্চিত হন। আবার অনেক নার্সও কাজের চাপে নিজেদের ভাইকে ফোঁটা দিতে যেতে পারেন না। তাই ঠিক করা হয়, ভাইফোঁটার আসর বসানো হবে হাসপাতালেই।

এ দিন বেলা ১২টা থেকে শুরু হয় হাসপাতালে ভাইফোঁটা। বিভিন্ন ওয়ার্ডের রোগীদের কাছে পৌঁছে যান নার্সেরা। ফোঁটা-পর্ব শেষে রোগীদের হাতে তুলে দেওয়া দু’রকমের সন্দেশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রায় ৩৩০ জন রোগীর জন্য দুপুরে যে খাবারের ব্যবস্থা করেন তাতে ছিল ফ্রায়েড রাইস, কষা মাংস, ডাল, আলু-ফুলকপির তরকারি, মিষ্টি ও দই।

হাসপাতালে ভর্তি গুপ্তিপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল রহমান বলেন, ‘‘হাসপাতালে ভর্তি হয়ে এমন ভাল অভিজ্ঞতা হবে, কখনও ভাবিনি!’’ হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বরাই বলেন, ‘‘অনেক মানুষ আছেন যাঁরা অসুস্থতার কারণে এই দিনটি হাসপাতালে কাটাতে বাধ্য হন। কিন্তু তাঁরা যাতে এই দিনের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হন, সে কথা মাথায় রেখেই এমন আয়োজন।’’ সুপারের দাবি, এমন উদ্যোগে রোগীদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

নার্স তনুশ্রী মালো, শিখা হাজরা, দীপা বন্দোপাধ্যায়রা বলেন, ‘‘অনেকের কপালে ফোঁটা দিয়েছি। ওঁরা যাতে দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেই প্রার্থনা করি।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন