গুদামঘর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কেটে পাইপ লাইন ফুটো করে দেড় মাস ধরে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার তেল চুরির অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত মিরাজউদ্দিন মোল্লা ওরফে গোলাপ মোল্লার বাড়ি খণ্ডঘোষের কৈশর গ্রামে। শনিবার বিকেলে স্থানীয় কাঁটাপুকুর গ্রাম থেকে তাকে ধরে পুলিশ। তেল চুরিতে ব্যবহৃত বেশ কিছু যন্ত্রাংশও ওই গুদামঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে। রবিবার ধৃতকে আদালতে তোলা হলে  চার দিনের পুলিশ হেফাজত হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হলদিয়া থেকে বারাউনি পর্যন্ত ওই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পাইপলাইন গিয়েছে খণ্ডঘোষের কাঁটাপুকুরের উপর দিয়ে। মাস দেড়েক ধরে তেলের চাপ কম থাকায় কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি। ওই সংস্থার পরিদর্শকেরা খোঁজ শুরু করেন। কাঁটাপুকুর এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কন্ট্রোল রুমের পাঁচিলের পাশে প্রায় দিনই তেল পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপরেই গত বুধবার বীরভূমের বোলপুর দেখতে সংস্থার একটি বিশেষজ্ঞ দল কাঁটাপুকুরে আসে। শনিবার ওই দলটি মাটি খুঁড়ে মূল পাইপলাইনের কাছে পৌঁছেই অবাক হয়ে যান।

পুলিশের এক কর্তা বলেন, “ওই পাইপলাইনের পাশেই একটি গুদাম রয়েছে। মূল পাইপটি ফুটো করে সেখানে অন্য একটি পাইপ লাগিয়ে মাটির ভিতর দিয়ে সুড়ঙ্গ করে গুদামঘর পর্যন্ত পাইপটি নিয়ে যাওয়া হয়েছে।” গুদামঘরে ঢুকে তাঁরা দেখেন, পাইপলাইন থেকে তেল বের করার পাকাপোক্ত ব্যবস্থা করা রয়েছে। সুড়ঙ্গটি যাতে ধসে না যায় তার জন্য বেশ কিছু জায়গায় দেওয়ালে লোহার পাত দেওয়া রয়েছে। পুলিশ ওই গুদামঘর থেকে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ছাড়াও বড় বড় পাত্র পেয়েছে। ওই সংস্থার ধারণা, রাতের দিকে তেল পাচার করা হতো। শনিবার রাতে ওই সংস্থার হলদিয়া ইউনিটের ম্যানেজার (অপারেশন) মিলনকুমার ঘোষের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চুরি, পেট্রোলিয়াম ও মিনারেল পাইপলাইন আইনের (১৯৬২) ১৫ ও ১৬ ধারায় মামলা রুজু করে। ধরা হয় মিরাজউদ্দিনকে।

পুলিশ জানিয়েছে, বছর দু’য়েক আগেও ওই সংস্থার পাইপলাইন থেকে তেল চুরির ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পুলিশের এক কর্তার কথায়, “কন্ট্রোল রুম লাগোয়া পাইপলাইন থেকে রীতিমত সুড়ঙ্গ তৈরি করে পাকাপোক্ত ভাবে তেল চুরি হচ্ছে, অথচ সেখানকার কর্মীরা কিছুই জানেন না, সেটা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তদন্ত শেষে সব বোঝা যাবে।”