ফোনে ডেবিট কার্ডের নম্বর, পিন বা মোবাইলে আসা ‘ওটিপি’ জেনে নিয়ে দুর্গাপুরে অনলাইন প্রতারণা অভিযোগ উঠেছে বারবার। এ বার ব্যাঙ্কের ‘ফিক্সড ডিপোজিট’-এর টাকাও সরিয়ে ফেলল দুষ্কৃতীরা। দুর্গাপুরের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের নডিহা’র উত্তরায়নের বাসিন্দা কৃশাণু ভুঁইয়া মোট ৫ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা খুইয়েছেন বলে অভিযোগ।  

কৃশাণুবাবু কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। দুর্গাপুরের স্টেশন রোডে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় তাঁর ৯ লক্ষ ৪৪ হাজার ৫৫ টাকার ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ রয়েছে। ২০২০-র ৮ জানুয়ারি সেটির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কোকআভেন থানায় লিখিত অভিযোগে কৃশাণুবাবুর স্ত্রী ঋতুপর্ণাদেবী জানান, ১৬ জানুয়ারি সেই ফিক্সড ডিপোজিটটি ‘প্রিম্যাচিওর’ করে অনলাইনে ছ’দফায় মোট ৫ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা সরিয়ে ফেলা হয়। কৃশাণুবাবুর মোবাইলে তার এসএমএস-ও আসে। তখন তিনি স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। ঋতুপর্ণাদেবী ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘‘ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি। কী ভাবে টাকা ফেরত পাব জানি না। গভীর দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’’ পুলিশ জানায়, ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঋতুপর্ণাদেবীর আরও অভিযোগ, ফোন করে ডেবিট কার্ডের নম্বর, পিন বা মোবাইলে ওটিপি জেনে প্রতারণার ঘটনা ঘটে থাকে। তার জন্য তাঁরা সতর্ক ছিলেন। কিন্তু এমন যে হতে পারে, তা বিশ্বাস হচ্ছে না। তাঁর প্রশ্ন, ‘‘ব্যাঙ্কের কোনও কর্মী জড়িত না থাকলে এমনটা কি হতে পারে? বাইরে থেকে দুষ্কৃতীরা কী ভাবে ফিক্সড ডিপোজিট আগাম ভাঙতে পারে? বড় কোনও চক্র জড়িত আছে। আমরা টাকা ফেরত চাই।’’ তিনি জানান, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ব্যাঙ্ক সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃশাণুবাবুর সেভিংস অ্যাকাউন্টে তিন হাজার ৭৮৭ টাকা আগে থেকে ছিল। ১৬ জানুয়ারি ফিক্সড ডিপোজিট বাবদ যোগ হয় ৯ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৩৪ টাকা। ওই দিনই সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দু’দফায় ৮০ হাজার করে, তিন দফায় ৯০ হাজার করে এবং এক বার ৯৯ হাজার টাকা অনলাইনে সরিয়ে ফেলা হয়। অনলাইন কেনাকাটার একটি অ্যাপের মাধ্যমে সেই টাকা সরানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ব্যাঙ্কের ওই শাখার ম্যানেজার অর্চনা কুমারী জানান, কী ভাবে ওই গ্রাহকের টাকা উধাও হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানান, কৃশাণুবাবুর ওই অ্যাকাউন্টে ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের সুবিধা রয়েছে। তার মাধ্যমে এই বিপত্তি কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও কৃশাণুবাবুর বক্তব্য, ‘‘ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে লেনদেন করতে হলে ওটিপি আসে। আমার মোবাইলে তেমন কোনও ওটিপি আসেনি।’’