কাগজকলের নোংরা জল বইছে এলাকা দিয়ে। পরে তা মিশছে গাড়ুই নদীতে। এমনকি, নদীর জলও নিয়ম বহির্ভূত ভাবে ব্যবহার করছেন মিল কর্তৃপক্ষ। এমনই অভিযোগে সোমবার সালানপুর থানা মেলেকোলা গ্রাম লাগোয়া একটি কাগজকলে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠল এলাকাবাসীর একাংশের বিরুদ্ধে।

এ দিন কী ঘটে? পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল ১০টা নাগাদ এলাকাবাসীর একাংশ কারখানা কার্যালয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ। ভাঙচুর করা হয় দরজা, জানলা। সেই সঙ্গে চলে অবস্থান-বিক্ষোভও। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় সালানপুর থানার পুলিশ। পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ ওঠে।

কিন্তু বিক্ষোভ উঠলেও এলাকাবাসীর একাংশ আসানসোল পুরসভায় চলে যান। সেখানেও শুরু হয় বিক্ষোভ। বিক্ষোভের খবর পেয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলার জন্য বেরিয়ে আসেন মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। জিতেন্দ্রবাবু বলেন, ‘‘গ্রামবাসীর এমন বিপত্তি কোনও ভাবেই আমরা মানব না। এলাকাবাসীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।’’

কিন্তু কেন এমন ঘটনা? স্থানীয় বাসিন্দা সোনা মাজি, মিঠাই হাঁসদারা জানান, ধর্মজোড়, বিদায়গড়, সুতিডাঙা, কালিকাপুর, সুইডি, গাড়ুই, রামজীবনপুর-সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা দৈনন্দিন কাজকর্মের জন্য এই নদীর উপরে নির্ভর করেন। কারণ, এলাকায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের কল থাকলেও তা থেকে প্রয়োজনীয় জল মেলে না বলে অভিযোগ।

এই গ্রামগুলির বেশির ভাগই আসানসোল পুরসভা এলাকার অন্তর্গত। কিছু রয়েছে এথোড়া পঞ্চায়েতের মধ্যে। সোনাবাবুদের অভিযোগ, ‘‘টানা পাঁচ বছর ধরে এমন বিপত্তি ঘটছে। নদীর জল কালো হয়ে গিয়েছে। দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পুরসভা, পঞ্চায়েত, কারখানা কর্তৃপক্ষ-সহ নানা জায়গায় এ বিষয়ে আমরা বারবার অভিযোগ করেছি। কিন্তু লাভ হয়নি।’’

এলাকাবাসী জানান, দু’টি কারণে মূলত বিপত্তি ঘটছে। প্রথম অভিযোগ: কাগজ তৈরির জন্য কাঁচামালের মণ্ড তৈরি করতে হয়। তার জন্য রাসায়নিক দিয়ে কাঁচামাল জলে পচাতে হয়। সেই নোংরা জলই নদীতে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ। দ্বিতীয় অভিযোগ, নদীর জল ব্যবহার করছেন মিল কর্তৃপক্ষ। ফলে প্রয়োজনীয় জল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী।

এই পরিস্থিতিতে এলাকায় চর্মরোগ, পেটের রোগ ছড়াচ্ছে বলেও অভিযোগ। যদিও মহকুমাশাসক (আসানসোল) প্রলয় রায়চৌধুরী, ‘‘এমন দূষণের খবর জানি না। তবে অবশ্যই খোঁজখবর করব।’’ সালানপুর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি শ্যামল মজুমদারও বলেন, ‘‘এমন ঘটনা ঘটে থাকলে অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে।’’ কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি। উত্তর মেলেনি এসএমএস-এর।

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আসানসোলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার সুদীপ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরাও অভিযোগ পেয়েছি। আমরা কারখানা কর্তৃপক্ষকে ডেকে সতর্ক করেছি।  অভিযান চালিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।’’ বিষয়টি নিয়ে সাহিত্যিক জয়া মিত্রের মন্তব্য, ‘‘কারখানা যাতে নোংরা জল-সহ নানা রকম বর্জ্য নদীতে না ফেলতে পারে, তার জন্য আইন রয়েছে। কিন্তু সেই আইন অনেক ক্ষেত্রেই মানা হয় না। আইনরক্ষকদেরও বিষয়টি নিয়ে নজরদারি নেই। সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের ফলেই এমন প্রবণতা বন্ধ হতে পারে।’’