নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে চলছে উড়ান। অথচ, তা না জানানোয় বিপাকে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করলেন যাত্রীদের অনেকে। রবিবার তাই অণ্ডাল বিমানবন্দরের টার্মিনালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিল না বলে দাবি তাঁদের। এ দিন সকালে এয়ার ইন্ডিয়ার দুর্গাপুর-দিল্লি রুটের উড়ান নিয়ে এই অভিযোগ   তুলেছেন যাত্রীরা। এয়ার ইন্ডিয়া সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে দূষণের জেরে অনেক উড়ান ওঠা-নামায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। তার জেরেই নানা উড়ানের সময়সূচি পরিবর্তন হয়েছে।

অণ্ডাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে দিল্লি থেকে এসে উড়ানটি ৮টা ২৫ মিনিটে অণ্ডাল থেকে ছেড়ে যায়। এ দিন উড়ানটি দিল্লি থেকে আসে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট নাগাদ। সেটি ছেড়ে যায় দুপুর ১টা ১০ মিনিট নাগাদ। যাত্রীদের অনেকে জানান, সকালে নির্ধারিত সময়ে তাঁরা বিমানবন্দরে আসার পরে জানতে পারেন, উড়ানটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে চলছে। উড়ান সংস্থা তাঁদের এ ব্যাপারে কিছু জানায়নি বলে অভিযোগ যাত্রীদের অনেকের। আগে জানলে বাড়ি থেকে দেরিতে বেরোতে পারতেন বলে জানান তাঁরা।

যে সব যাত্রীর বাড়ি বিমানবন্দর থেকে বেশি দূরে নয়, তাঁরা ফিরে যান। তবে দূর থেকে আসা যাত্রীদের অনেকে অপেক্ষা করতে থাকেন বিমানবন্দরেই। ওই উড়ানের যাত্রী এক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার আধিকারিক বলেন, ‘‘এ ভাবে যাত্রীদের বিপাকে ফেলা উচিত নয়।’’ যাত্রীদের একাংশ জানান, অনেকে ছটপুজোর পরে এ দিন বাড়ি থেকে কাজের জন্য দিল্লি ফিরছিলেন। তাঁরা সমস্যায় পড়েছেন। 

‘পশ্চিম বর্ধমান ডিস্ট্রিক্ট চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর কার্যকরী সভাপতি পবন গুটগুটিয়া বলেন, ‘‘এমন ঘটনায় যাত্রীরা ভরসা হারান। চার মাস আগে ওই রুটের টিকিট কেটেও অগস্টে ঠিক দু’দিন আগে বিমান বাতিলের বার্তা দেওয়া হয় আমায়। চরম সমস্যায় পড়তে হয়েছিল সে বার।’’

এয়ার ইন্ডিয়ার তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, যে সব যাত্রীর ব্যক্তিগত নম্বর সংস্থার কাছে ছিল, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উড়ান দেরিতে চলার কথা জানানো হয়েছিল। যাঁরা এজেন্ট মারফত টিকিট কেটেছিলেন, তাঁদের জানানো সম্ভব হয়নি। দু’জন যাত্রীর দিল্লি থেকে বিদেশে যাওয়ার উড়ান ধরার কথা ছিল। তাঁদের অন্য উড়ানে গন্তব্যে পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উড়ান সংস্থাটি।