নতুন গাড়ি কিনলেই লাইসেন্সের জন্য যেতে হত জেলার আঞ্চলিক পরিবহণ দফতরে। সেই হয়রানি এ বার ঘুচল কাটোয়ার বাসিন্দাদের। শুক্রবার কাটোয়ায় নবনির্মিত পরিবহণ দফতর অফিসের উদ্বোধন করলেন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শহরের বাসস্ট্যান্ড সংস্কারের শিলান্যাসও করলেন তিনি। কাটোয়াকে প্লাস্টিকমুক্ত শহর হিসাবে গড়ে তুলতে বিলি হল পাটের ব্যাগ।

শুক্রবার বিকেলে কাটোয়ার কেডিআই স্কুল চত্বরে আয়োজিত সভায় শুভেন্দু ছাড়াও ছিলেন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলা পরিষদের বিদায়ী সভাধিপতি দেবু টুডু, পরিবহণ দফতরের মুখ্য সচিব বি পি গোপালিকা, কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়েরা। গাড়ির লাইসেন্স বা ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ পাওয়ার ব্যাপারে এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যা দূর করতে পরিবহণ দফতরের বরাদ্দ অর্থে এআরটিও কার্যালয় তৈরি হয়েছে কাটোয়ায়। এ দিন সেটির উদ্বোধন করেন শুভেন্দু। কাটোয়া আদালত চত্বরের পাশে এই কার্যালয়টি তৈরি করেছে পূর্ত দফতর। 

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কাটোয়া বাসস্ট্যান্ডটির আধুনিকীকরণের জন্য প্রথম পর্বে ৩ কোটি ৩ লক্ষ টাকা পাঠিয়েছে পরিবহণ দফতর। এ দিন সেই কাজেরও শিলান্যাস করেন পরিবহণ মন্ত্রী। কয়েকজন উপভোক্তাকে গতিধারার অনুমোদনপত্র, শিক্ষার্থীর লাইসেন্স, হেলমেট, পরিবহণ কর্মচারীদের চশমা দেওয়া হয়। পরিবেশের স্বার্থে প্লাস্টিক বর্জনে উৎসাহ দিতে ২৫ হাজার পাটের ব্যাগ, গাছের চারা বিতরণও করা হয়। ‘জলধারা’ প্রকল্পে যাঁরা নদীতে নতুন প্রযুক্তির যন্ত্রচালিত যান চালাতে চান তাঁদের এক লক্ষ টাকা ভর্তুকি দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়। নৃসিংহপুর থেকে কালনা, দাঁইহাট থেকে মাটিয়ারি, মায়াপুর থেকে নবদ্বীপ বড়ালঘাট, স্বরূপগঞ্জ থেকে নবদ্বীপ ও হবিবপুর থেকে বলাগড় জলপথে ওই প্রকল্পে যান চালাতে ইচ্ছুকদের অনুমোদন দেওয়া হয়। 

পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, লাইফ জ্যাকেট, রাতে ফেরিঘাটে আলোর ব্যবস্থা, ড্রপগেট তৈরি-সহ জেলার ১৪টি ঘাটের সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। অনুমোদনহীন ঘাট বন্ধ করতে কড়া নির্দেশও দেন শুভেন্দু। পুরসভা জায়গা দিলে পরিবেশ দফতরের অর্থে কাটোয়ায় ‘ভেষজ উদ্যান’ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।