দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েতে না আসার অভিযোগে প্রধানের বাড়ির সামনে ও পঞ্চায়েত অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন এক দল বাসিন্দা। বুদবুদের চাকতেঁতুলে এ দিন প্রধান অশোক ভট্টাচার্য পঞ্চায়েত অফিসে আসতে পারেন, এই খবর পেয়ে তাঁরা জড়ো হন। কিন্তু তিনি না আসায় তাঁরা প্রধানের বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অভিযোগ, প্রধানের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। বিক্ষোভকারীদের পাল্টা অভিযোগ, প্রধান ও তাঁর দুই সঙ্গী এক বিক্ষোভকারীকে বেধড়ক মারধর করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকতেঁতুল পঞ্চায়েতের প্রধান অশোকবাবুর বিরুদ্ধে এলাকার কিছু বাসিন্দা নানা অভিযোগ তুলছেন দীর্ঘদিন ধরে। একশো দিনের কাজ থেকে আবাস যোজনা, নানা প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই বাসিন্দাদের অভিযোগ, নর্দমা তৈরি না করেই তার টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। ভুয়ো মাস্টাররোল তৈরি করে টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। তাঁরা বিডিও-র কাছে অভিযোগও করেছেন বলে বাসিন্দাদের দাবি। তাঁদের আরও অভিযোগ, লোকসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে প্রধান আর পঞ্চায়েতে আসছেন না। ফলে, সমস্যায় পড়ছেন পঞ্চায়েতে নানা কাজে আসা মানুষজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ দিন প্রধান পঞ্চায়েতে আসতে পারেন, এই খবর চাউর হতেই এলাকার অনেকে পঞ্চায়েত অফিসের সামনে জড়ো হন। তাঁদের দাবি, প্রধানকে সব কাজের হিসাব দিতে হবে। কিন্তু প্রধান এ দিনও অফিসে না আসায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই বাসিন্দারা তাঁর বাড়ির সামনে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। প্রধান অশোকবাবু অভিযোগ করেন, বাঁশ, লাঠি নিয়ে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। তাঁর বাড়ি ও দোকানে লুটপাটও চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, ‘‘কোনও দুর্নীতিতে যুক্ত নই আমি। প্রশাসন তদন্ত করলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। বিজেপির নেতৃত্বে আমার বাড়িতে হামলা হয়েছে।’’

ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের পাল্টা অভিযোগ, এ দিন এক বিক্ষোভকারী সুভাষ বাগদিকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেন অশোকবাবু ও তাঁর সহযোগীরা। বিজেপি নেতা তপন বাগদি অবশ্য দাবি করেন, স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের কারণেই এ দিন এই ঘটনা ঘটেছে। এর সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও যোগ নেই।