• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

মিলবে পরীক্ষায় বসার অনুমতি, স্বস্তিতে পড়ুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুুয়ারা

Students
‘ফি’ বৃদ্ধির প্রতিবাদে। নিজস্ব চিত্র
বর্ধিত ‘সেশন-ফি’ দিতে না পারলেও পরীক্ষায় বসার অনুমতি পাবেন স্নাতকোত্তর বিভাগের চতুর্থ সিমেস্টারের পড়ুয়ারা। সোমবার এই মর্মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এই বিজ্ঞপ্তি দেখার পরে, স্বস্তি পেলেন পড়ুয়ারা।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার শান্তুনু ঘোষ এ দিন বলেন, ‘‘আমরা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছি, ‘সেশন-ফি’ দিতে অপারগ পড়ুয়ারাও পরীক্ষায় বসার অনুমতি পাবেন।’’ তিনি জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পড়ুয়াই ‘সেশন-ফি’ জমা করে দিয়েছেন। শ’দেড়েক পড়ুয়া এখনও ‘ফি’ জমা দিতে পারেননি।
 
এ দিকে, এ দিনই ‘ফি’ বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ-অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। পরে উপাচার্যকে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। সংগঠনের জেলা সভাপতি কৌশিক মণ্ডলের দাবি, ‘‘ফি বৃদ্ধি আমরা মানছি না। কর্তৃপক্ষকে বর্ধিত ‘ফি’ প্রত্যাহার করতেই হবে।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফিজ় রিভিউ কমিটি’তে ছাত্র প্রতিনিধি রাখতে হবে। তাঁদের কথার গুরুত্ব দিতে হবে।’’ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এই দাবির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সাধন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ছাত্রদের এই দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
 
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্নাতকোত্তর বিভাগের ‘সেশন-ফি’ ৩৭৫ থেকে বাড়িয়ে ১,৩৫০ টাকা করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আন্দোলন শুরু করেছেন একদল পড়ুয়া। তাঁদের আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ‘ফিস রিভিউ’ নামে একটি কমিটি গঠন করে বর্ধিত ‘ফি’ পর্যালোচনা করান। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিনান্স (অর্থ) কমিটি ‘ফি’ কমানোর বিষয়ে কোনও রকম পরামর্শ না দেওয়ায় ওই ‘সেশন-ফি’-ই বহাল রাখা হয়। এরই মধ্যে করোনা অতিমারির প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ‘ফি’ বৃদ্ধি সংক্রান্ত বিষয়ে আর কোনও উচ্চবাচ্য ওঠেনি। আনলক পর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম ফের শুরু হলে কর্তৃপক্ষের তরফে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ২৬ অগষ্টের মধ্যে স্নাতকোত্তর বিভাগের চতুর্থ সিমেস্টারের ‘সেশন-ফি’ মেটানোর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এর পরে পড়ুয়ারা ফের বর্ধিত ‘ফি’ প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বার পড়ুয়াদের এক হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন। অভিযোগ, তবে কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়, ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ‘সেশন-ফি’ মেটাতে হবে। না হলে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।
 
আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসেননি পড়ুয়ারা। বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের পক্ষে ইংরেজি বিভাগের ছাত্রী অর্পিতা রায়ের অভিযোগ, ‘‘বহু পড়ুয়া আর্থিক সহায়তা চেয়েও অনুদান পাচ্ছেন না। অনেকের কাছ থেকে বর্ধিত ফি চেয়ে ফোন করা হচ্ছে।’’ এ সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বুধবার রাতভর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার চৈতালি দত্ত-সহ সাত জন কর্মীকে আটকে বিক্ষোভ-অবস্থান করেন পড়ুয়াদের একাংশ।
 
পরদিন সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব দিলে অবস্থান-বিক্ষোভ ওঠে।
তবে সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারির পরে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও বর্ধিত ফি প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে মন্তব্য করেন বিক্ষোভকারীরা।

 

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন